কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৪, ২০:৩২
লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েও রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ছোট করা যাচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৭ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে গত মার্চেও রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এটি মাথায় রেখে আসছে বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা। যদিও এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে।
রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৬ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।
এদিকে বিগত মার্চ মাসেও কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আলোচ্য সময়ে ১২ হাজার ১২১ কোটি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়েও আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক অনুবিভাগের সবকটিতেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ে ঘাটতি দেখা গেছে।
এনবিআরের হিসাবে, বিগত নয় মাসে আয়কর খাতে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কেবল আয়কর খাতেই ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আয়কর খাতে ৩০ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কর আদায় হয়েছে ২৫ হাজার ৫১ কোটি টাকা। ৩২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৯২ কোটি টাকা। অন্যদিকে শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।
অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এর ফলে বড় খাতগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিগত দুই মাস আগে লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শুরুতে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪৮ হাজার ৩০০ কোটি, ৫১ হাজার কোটি ও ৩৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় যথাক্রমে ৪৪ হাজার ৩৬০ কোটি, ৪৬ হাজার ৮৫০ কোটি ও ৩২ হাজার ৮৭০ কোটি টাকায়। এর বাইরে অন্যান্য খাত থেকে আরো প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়।