ডিবির ১৪ সদস্যকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

রাজধানীর রামপুরায় পুলিশের হাতে জব্দকৃত চোরাচালানের স্বর্ণের বার আত্মসাতের মামলা তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ১৪ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুলিশের এক সহকারী কমিশনার (এসি) সহ একাধিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। জড়িত ওইসব কর্মকর্তাদের সম্পর্কের তথ্য যাচাই বাছাই করতে এ ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। দুদক সূত্র আরো জানায়, জব্দ করা স্বর্ণ ও চোরাকারবারিদের ছাড়াতে পুলিশের এক এসি তদবির করেছিলেন। এমনকি নিজ কক্ষে থানার ওসিকে ডেকে এনে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। স্বর্ণ চোরাকারবারিদের বাঁচাতে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের আরো একাধিক কর্মকর্তা চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ এসেছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ রাতে রামপুরাস্থ ব্যাংক কলোনীর বালুর মাঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে ২৩৫টি সোনার বারসহ একটি প্রাইভেট কার আটক করে রামপুরা থানা পুলিশ। আটকৃত প্রাইভেট কারটি থানায় নিয়ে আসার পর এসআই মুনজারুল আলম, পুলিশ কনস্টেবল ওহিদ এবং আকাশ পুলিশ সোর্স রনির সহযোগিতায় ১৪৯টি সোনার বার সরিয়ে ফেলে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা ও ওসি (তদন্ত) নাসিম আহমেদকে থানা থেকে ক্লোজ করে ডিএমপি। তখনো কেউ জানত না সোনার বার সরিয়ে ফেলার সাথে পুলিশের অন্য সদস্যরা জড়িত। পরবর্তীতে বিষয়টির তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসে প্রাইভেট কার থেকে সোনার বার সরানো তিন পুলিশ সদস্যের নাম। তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে ১ এপ্রিল বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ।