মোল্লা নাসিরুদ্দীন হোজ্জা

মোড়লের লেখা কবিতা

 

হোজ্জার গাঁয়ের যিনি মোড়ল, তিনি একটা কবিতা লিখেছেন। হোজ্জাকে তিনি সেটা পড়ে শোনালেন। নিজের লেখা সম্পর্কে বেশ উঁচু ধারণা পোষণ করেন মোড়ল সাহেব। গদগদ কণ্ঠে তিনি হোজ্জার কাছে জানতে চান,  তা, আমার এই কবিতাটা কেমন লাগল আপনার? বেশ ভালো লেগেছে নিশ্চয়ই।

হোজ্জা গম্ভীর। তিনি সোজাসাপটা জবাব দেন, নাহ, মোটেও ভালো লাগেনি আমার। পচা কবিতা।

এ কথা শুনে মোড়ল বেশ ক্ষিপ্ত হলেন। রাগের চোটে গা জ্বলে যাচ্ছে তাঁর। কড়া শাস্তি দিলেন হোজ্জাকে। টানা তিনদিন জেলে বন্দি থাকতে হবে তাঁকে।

পরের সপ্তাহের ঘটনা। মোড়ল হোজ্জাকে ডেকে পাঠিয়েছেন তাঁর দপ্তরে। নতুন একটা কবিতা লিখেছেন তিনি। সেটা বেশ ঘটা করে পড়ে শোনালেন। হোজ্জার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন মোড়ল, কী, এই কবিতাটা কেমন লিখেছি? এই কবিতা সম্পর্কে এখন আপনি কী বলবেন?

নাসিরুদ্দীন হোজ্জা চুপ। তাঁর মুখে কোনো কথা নেই। মোড়লের কথা শোনার কয়েক সেকেন্ড পর তিনি হাঁটা ধরলেন। মোড়ল অবাক। জানতে চাইলেন, আরে, আরে! কী ব্যাপার? হোজ্জা, আপনি যাচ্ছেন কোথায়?

জেলে। হোজ্জার সংক্ষিপ্ত উত্তর। 

হাসান হাফিজ