নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের জন্য অনেক ঝুঁকি
প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৪, ২২:৪৮
ভারতের নির্বাচন ও বাংলাদেশে এর প্রভাব বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের জন্য অনেক ঝুঁকি রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা ইস্যুগুলো নিষ্পত্তি হওয়া দুরূহ হতে পারে। নিরাপত্তা ইস্যুতেও অনিশ্চয়তা বাড়বে। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিচ এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিপস) গতকাল সোমবার বিকালে ‘গুলশানের একটি হোটেলে ভারতের নির্বাচন:বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। বিপস-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আনম মুনীরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করিম প্রমুখ।
অধ্যাপক শহীদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, দিল্লীতে রাষ্ট্র ক্ষমতার বদল হলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কি অবস্থা দাঁড়াবে তা সবাইকে ভেবে দেখা দরকার। সম্ভাব্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া দরকার। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশের ঝুঁকি অনেক বেশি। সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের মতো ভারতের সঙ্গে মামলায় বাংলাদেশ জয়লাভ করলে নরেন্দ্র মোদী সরকার কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা দেখার বিষয়। তারা হয়তো রায় মানতে চাইবে না। অসমাপ্ত তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত প্রটোকল, ছিটমহল বিনিময় অগ্রাহ্য করতে পারে নতুন সরকার। এ অবস্থায় নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বাংলাদেশে শক্তিশালী, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার থাকলে স্বার্থ আদায় সহজ হতে পারে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান বলেন, নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে ভারতের তৃণমূল পর্যায়ে অনেক অসন্তোষ আর ক্ষোভ রয়েছে। তার কিছু বক্তব্যের জন্য আইনগতভাবেও বিপদে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি সতর্ক হয়েছেন। এরপরও অভিবাসীদের নিয়ে যা বলেছেন তা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।
অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, ভারতে এখন একটি দুর্বল সরকার দরকার। ঠিক তেমনি বাংলাদেশে দরকার শক্তিশালী ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। তাহলে আমাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়ে দরকষাকষি সহজ হবে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগ-অনুভূতিকে প্রাধান্য দেয়ার সুযোগ নেই। স্বাভাবিক নিয়মে ভারতে যে অভিবাসন হচ্ছে আইন করেও ভারত সরকার তা ঠেকাতে পারবে না।
মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান বলেন, ভারতে বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর মধ্যে ভারসাম্য থাকা দরকার। এ নির্বাচনে মনে হচ্ছে আপাতত উত্তরাধিকারের রাজনীতির অবসান হচ্ছে। এসব পরিবর্তন ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের নজরে রাখা দরকার। এখনই প্রস্তুতি নেয়া দরকার নতুন সরকারের সঙ্গে কিভাবে অগ্রসর হওয়া যায়।