নূর হোসেন ও ঘনিষ্ঠদের ১১ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল
প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৪, ২২:৫৭
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ সাতজনের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়া। এর মধ্যে সাতটি শর্টগান, দুইটি পিস্তল, একটি রাইফেল ও একটি রিভলবার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি রাইফেল ও একটি পিস্তলের লাইসেন্স নূর হোসেনের নামে। গত দুই বছরে আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স দেয় সরকার। এর আগে গত রবিবার আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানায় নিহত নজরুলের পরিবার।
এদিকে আলোচিত ওই সাত হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোন অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। তবে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থেকে গতকাল দুপুরে রতন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, যে অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল হয়েছে তার মধ্যে ২০১২ সালে একটি রাইফেল ও একটি শর্টগানের লাইসেন্স দেয়া হয়। বাকি সব অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয় ২০১৩ সালে। নিয়ম অনুযায়ী শর্টগানের লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসক। পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স জেলা প্রশাসকের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়। এসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন মনোজ কান্তি বড়াল। সম্প্রতি কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার পর মনোজ কান্তি বড়ালকে প্রত্যাহার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন আনিসুর রহমান মিয়া।
নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তার শ্বশুর শহীদুল ইসলাম এসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন। তাদের দাবি, নূর হোসেন ও তার অনুসারীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল এবং গ্রেফতার করলেই সাত হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে। শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ৬ কোটি টাকা নিয়ে র্যাব-১১-এর তত্কালীন সিইও তারেক সাঈদ, মেজর রানা ও মেজর জাহাঙ্গীর এই খুনে সহযোগিতা করেছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, নূর হোসেন ২০১২ সালে ২২ বোরের একটি রাইফেলের লাইসেন্স পান। পরের বছর তিনি একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান। পলাতক হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুইটি অস্ত্র সব সময় তার গাড়িবহরে থাকত। নূর হোসেনের ভাই মো. নূরুউদ্দিন মিয়া গত বছরের শুরুতে একটি শর্টগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ভাতিজা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল একটি শর্টগানের লাইসেন্স পান ২০১২ সালে। গত বছর পান একটি পিস্তলের লাইসেন্স। নূর হোসেনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহান (পিতা- মৃত ইদ্রিস আলী, নয়াআঁটি, সিদ্ধিরগঞ্জ), দেহরক্ষী আলী মোহাম্মদ (পিতা- মৃত আবদুল হক, শিমরাইল, টেকপাড়া), সানাউল্লাহ (পিতা- মৃত জয়নাল আবেদীন, শিমরাইল) ও জামালউদ্দিন (পিতা- সিদ্দিকুর রহমান, মিজমিজি বাতেন পাড়া) গত বছর একটি করে শর্টগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও সিদ্ধিরগঞ্জ কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুল হক হাসান গত বছর একটি শর্টগান ও একটি রিভলবারের লাইসেন্স পান বলে জানা গেছে।
এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। নূর হোসেনকে গ্রেফতারের ব্যাপারে তিনি বলেন, অভিযান চলছে। এখনই এর বেশি কিছু বলা যাবে না। তবে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোন অগ্রগতি নেই। তবে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে একাধিক অভিযান হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।