এস আই টুটুল। এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন কি-বোর্ডিস্ট হিসেবে বাজিয়েছেন। এরপর গড়েছেন একক ক্যারিয়ার। পরবর্তীতে ফেস টু ফেস ও ধ্রুবতারা নামের ব্যান্ড ক্যারিয়ার নিয়ে করেছেন একাধিক স্টেজ শো। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সঙ্গীতশিল্পী বর্তমান সময়ের কাজ ও পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বিনোদন প্রতিদিনের। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
ঈদ উপলক্ষে কী নতুন গান আসছে?
নতুন কিছু কাজ শুরু করেছি আমরা ব্যান্ড মেম্বাররা সকলে। সেগুলোর কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই শ্রোতারা আমাদের নতুন গান পাবেন।
মিউজিক প্যাটার্ন বদলে গেছে। এখনকার মিউজিক লেবেল কোম্পানিগুলোর আদলও বদলেছে অনেকখানি। সেখানে নিজেকে খাপ খাওয়াতে কেমন লাগে?
না, এখানে খাপ খাওয়ানোর কোনোকিছু নেই। আমার দর্শক-শ্রোতারা আমার কাছ থেকে মেলোডি গানই শুনতে চায়। তবে এখন তো পুরো সময়টাই বদলে গেছে। কিশোর, তরুণদের কাছে এখন নানা ধরনের গেমস সফটওয়ার। ছোট ছেলেরা এফ এল এ মিউজিক করছে যেখানে এমনকিছু বিটস তৈরি করছে যা হয়তো ম্যানুয়ালি বাজানো কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব না। ব্যক্তিগতভাবে আমার এগুলো পছন্দ অপছন্দ নিয়েও কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ এটাই এখনকার ট্রেন্ড। কিন্তু এটা কতদিন সাসটেইন করবে সেটা হলো মূলকথা। কারণ দিনশেষে শ্রোতারা মেলোডিতে ফেরেন। আমি এসব মিউজিককে খারাপ বলছি না। কারণ সারাবিশ্বই এই প্যাটার্নেও মিউজিক শুরু হয়েছে। তবে মেলোডিতেই আমার সুর ফিরে আসবে। গানের জনপ্রিয়তার স্থায়িত্বকাল কমেছে ভীষণভাবে। এসব আমাকে ভাবায়।
এলআরবিতে বালামের যোগদান সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
এখনো যেহেতু বালামের পারফর্মেন্স আমি দেখিনি এলআরবিতে, তাই কিছু বলতে পারছি না। তবে ওর জন্য অন্তর থেকে আমার শুভকামনা। আমার মনে হয় ও ভালোই করবে।
এলআরবিতে আপনার ফেরার কোনো সম্ভাবনা বা স্টেজে এলআরবির গান গাওয়া প্রসঙ্গে শুনতে চাই—
না, এলআরবিতে ফেরা তো সম্ভব নয় এই কারণে যে, আমি আমার ব্যান্ড মেম্বারদের সাথে দীর্ঘদিনের একটি কমিটমেন্টে বাঁধা। সেক্ষেত্রে তাদের ছেড়ে আমি নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না কখনোই। তবে অবশ্যই এলআরবির যেকোনো সঙ্কটে আমি পাশে থাকবো। কারণ এটাকে বলি আমি আমার বাপের ব্যান্ড। ভাবী (আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী চন্দনা) আমার আপন বোনের মতো। শুধু রক্তের সম্পর্ক থাকলেই তো বোন হয় না। তিনি তাঁর চেয়েও আপন। তাই এসব পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হওয়ার নয়। আর আমি স্টেজে এখন আমার গুরুজি আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করি নিয়ম করে। ১ মিনিট নীরবতা পালন করে নতুন গান গাইতে শুরু করি। বসের গাওয়া গান, এলআরবিতে গাওয়া গান তো আমি গাই নিয়মিত। এটা তো খুব স্বাভাবিক।
সম্ভবত আইয়ুব বাচ্চুর সুরে শেষ চিঠি গানটি আপনার প্রথম গাওয়া। এ গানটি প্রসঙ্গে শুনতে চাই—
এটা শুধু গুরুজির সুরে আমার প্রথম রেকর্ডিংই নয়, এটা আমার প্রথম স্টুডিও মাইক্রোফোনে দাঁড়িয়ে কোনো গান গাওয়া। একদিন এই গানটি সুর করে আমাকে শোনালেন। বললেন, ‘দেখতো কেমন লাগে?’ আমি বললাম, দারুণ। এরপর স্টেজেও উনি গাইলেন। রেকর্ডিংয়ের দিন হঠাত্ করে উনি বললেন, ‘টুটুল গানটি গা তো।’ আমি তো হতবাক। সেই আমার জীবনে প্রথম ভয়েস রেকর্ডিং। আসলে কতশত হাজার দিনের স্মৃতি। বলে শেষ করা যাবে না।
এখনকার এই ভাইরাল প্রবণতার যুগে নিজেকে মানাতে কেমন লাগে?
আমি কখনোই তো বদলাবো বলে গান করিনি। আমি আমার মতো করে কাজ করে গেছি। আর ভাইরাল হওয়া অনেক গানই তো প্রচণ্ড মানহীন সঙ্গীত। এখন কথা আসতেই পারে—সঙ্গীতে মান নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বা ভালোলাগাটা আপেক্ষিক। কিন্তু না, অবশ্যই এখানে একটি মানদণ্ডে বিচার আছে এবং সেটিকে আমি স্পষ্ট করে বলতে পছন্দ করি।
হুমায়ূন আহমেদের সাথে আপনার অসংখ্য স্মৃতি। একটি স্মৃতির কথা শুনতে চাই—
কোনটা রেখে কোনটা বলি। যেমন কেউ প্রেম করে গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পেল। কিন্তু পুরস্কার পেলাম না। প্রত্যাশা ছিল মনে ভেতর। মন খারাপ করে বসে আছি স্যারের সামনে। বললেন, ‘মন খারাপ ক্যান।’ আমি বললাম, এত ভালো একটা গান গাইলাম। সব গান তো জনপ্রিয় হবে না। এটি হয়েছিল। কিন্তু পুরস্কার জুটল না। তাই মন খারাপ। তিনি বললেন, ‘তোমার জীবনে কোনো পুরস্কার দরকার নেই। যাও তোমাকে আমি হুমায়ূন অ্যাওয়ার্ড দিলাম।’ তাঁর কথাটি আমার কাছে এত দারুণ শক্তি জুগিয়েছিল, যা বলার না। সন্তানের মতো আদর করতেন, আগলে রাখতেন।