দিল্লিতে ক্ষমতার নিয়ামক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে বামফ্রন্ট
প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৪, ২৩:১৭
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় না থাকলেও লোকসভা নির্বাচনে ভারতে আসন বাড়তে চলেছে বলে আশা করছে সি পি এম-সহ বামপন্থি দলগুলো। আর এর ওপর ভর করে সরকারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। বামপন্থিরা নিশ্চিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ কিংবা ইউপিএ- কোনো জোটই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাই ভারতে তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার আশায় বামপন্থিরা। নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে গড়ে উঠবে তৃতীয় ফ্রন্ট। আর তাই সি পি এম সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রয়োজনে দলীয় সংবিধান সংশোধন করে প্রথমবারের মত সরকারে যোগ দেবে তারা।
দলের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত জানিয়েছেন, সামপ্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে তারা সরকারে যেতে পারেন। প্রয়োজনে কংগ্রেসকেও সেই সরকারে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের সমর্থনে জনতা সরকারের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। কংগ্রেস বাইরে থেকে সমর্থন করলেও পরে সেই সরকার ফেলে দেয়। কারাতের বক্তব্য সরকারে কংগ্রেস যোগ দিলে সেই ভয় আর থাকবে না। কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতার কথায়ও একই ইঙ্গিত মিলেছে।
কিন্তু কত আসন পেতে পারে বামফ্রন্ট? ভারতের গোয়েন্দা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থি দলগুলো পেতে পারে ১২-১৩টি আসন। কেরলে ১২ থেকে ১৪টি, ত্রিপুরায় ২টি। বিহারে জনতা দল (ইউনাইটেড), সিমান্ধ্রে ওয়াই এস আর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেধেছে বাম শরিক দল সিপিআই। এখান থেকে বামেদের আরো ২টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তামিলনাডু এবং উড়িষ্যা থেকে আরো ২-৩টি আসন মিলতে পারে। সব মিলিয়ে ৩০-৩২টি।
আর এখান থেকেই তৃতীয় ফ্রন্টের ভাবনা জোরদার হচ্ছে। নির্বাচন শুরুর আগেই উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি জানিয়ে রেখেছে, তারা তৃতীয় ফ্রন্টে আছে। তারা পেতে পারে ১৫-১৭টি আসন। কর্নাটকের জনতা দলও তৃতীয় ফ্রন্টে রয়েছে। তারা ৪-৫টি আসন পেতে পারে। বিহারের নিতিশকুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) নীতিগতভাবে তৃতীয় ফ্রন্টের সঙ্গে রয়েছে। তারা পেতে পারে ১৫টির মত আসন। সিমান্ধ্রের ওয়াই এস আর কংগ্রেসের ৮-১০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারাও তৃতীয় ফ্রন্টে আসতে পারে। সব মিলিয়ে তৃতীয় ফ্রন্টের ভাবনায় রয়েছে ৭৫-এর বেশি আসন। এছাড়া উড়িষ্যার বিজু জনতা দলও পরবর্তীতে তৃতীয় ফ্রন্টে যোগ দিতে পারে।
সিপিএম সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে তৃতীয় ফ্রন্টে ১০০ আসনের সমর্থন প্রায় নিশ্চিত। কারণ ইউপিএ শরিক শারদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি তাদের দিকে সমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউপিএ বা এনডিএ গরিষ্ঠতা না পেলে বিজেপিকে ঠেকাতে আরো আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন তারা পেতে পারেন। তাই সরকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বামেরাও। বিজেপিকে ঠেকাতে প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকেও জোটে ডাকা হতে পারে। এখন অপেক্ষা ১৬ মের। সেদিন বোঝা যাবে ভারতের ভবিষ্যত্ কোন দলের হাতে যাবে। কংগ্রেস, বিজেপি না কি তৃতীয় শক্তির হাতে।