মার্কিন কংগ্রেসে ফের জিএসপি ইস্যু উঠলে আশা তা ফেরত পাব
প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৪, ২৩:১৮
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ইউরোপের মার্কেটে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পেলেও এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সুবিধা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু জিএসপি (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা) স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জিএসপি ফিরে পেতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার পর ভেবেছিলাম, জিএসপি ফেরত পাব। কিন্তু পাইনি। টিকফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর ভেবেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়বে, বাণিজ্য বাড়বে। জিএসপি ফিরে পাওয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি। তবে আগামীতে মার্কিন কংগ্রেসে ফের জিএসপি ইস্যু উঠলে বাংলাদেশ জিএসপি ফিরে পাবে বলে আশা করি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে অনারারি কনসালদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ফ্রেডরিখ নোমান ফাউন্ডেশনের (এফএনএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, এফএনএফ-এর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সিজফ্রিড হারজং, বাংলাদেশ কনস্যুলার ক্রপসের প্রেসিডেন্ট আসিফ এ চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন এবং এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবীর।
গওহর রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, গত ৫ বছরে বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও রয়েছে। এরপরও বিদেশে আমাদের ইমেজ নেতিবাচক ধারণাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বিশ্বে আমাদের ইমেজকে ইতিবাচক করার জন্য কনসালরা ভূমিকা রাখতে পারেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, অনারারি কনসালরা মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে। তাছাড়া দেশের ভ্রমণরত মানুষের সুবিধার্থে ও বসবাসরত মানুষের প্রয়োজনে তারা কাজ করে। একটি দেশের সরকারের পক্ষে সব দেশে এ কাজ করা কঠিন। উপরন্তু কনসাল দিয়ে কাজ করা দক্ষ ও সহজ হয়। উন্নত দেশগুলোও বিভিন্ন দেশে তাদের পক্ষে কনসাল নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৫২ কনসাল নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু এ পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কনসালদের কাজ সহজ ও গতিশীল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, কনসালদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। তাছাড়া এ সংক্রান্ত গাইডলাইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে হবে। যেন কনসালরা তাদের কাজের সঠিক দিক নির্দেশনা পেতে পারেন।
কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার চাহিদা বিশ্বব্যাপী আরও বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে কনসালরা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে নজর দেয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কনসাল নিয়োগের ক্ষেত্রে কাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হবে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তাদের উপর দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ভর করে। তাছাড়া কনসালদেরকে বৈদেশিক নীতি সম্পর্কে ভালো জানতে হবে।