খুলনায় সংঘর্ষ সাংবাদিকদের ওপর হামলা

শহরতলীর জিরো পয়েন্টে গতকাল মঙ্গলবার যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে এক পক্ষের হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ এর খুলনা ব্যুরো প্রধান ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি মামুন রেজা, ক্যামেরাপার্সন খায়রুল আলম এবং নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্দুল হালিমসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত খায়রুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাংচুরের খবর পেয়ে খুলনা প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা দুপুর দেড়টা পর্যন্ত খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং পুলিশ কমিশনারের অপসারণ দাবি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার সকাল ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনা প্রেসক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ (কেইউজে) বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও জমি ব্যবসায়ী নাজমুল তার লোকজন নিয়ে জিরো পয়েন্টে বাগেরহাট পরিবহন মালিক সমিতির একটি অফিস উদ্বোধন করতে যান। এ সময় যুবলীগের অপর একটি গ্রুপের শতাধিক লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে আগে থেকেই সাংবাদিক মামুন রেজা ও খায়রুল আলম অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পরিবহন চলাচলের উপর ভিডিও চিত্র ধারণ করছিলেন। হঠাত্ করে কয়েকজন এসে তাদের উপর হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ভাংচুর করে। এতে খায়রুল আলমের মাথা ফেটে যায়। এসময় তারা নাজমুলের বাড়ী ও স্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে হামলা চালায় ও ভাংচুর করে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা হালিম সরদার, যুবলীগ নেতা এনামুল, আব্দুল্লাহসহ উভয় গ্রুপের ১৩ জন আহত হন। হামলার সময় স্থানীয় হরিণটানা থানা পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল নীরব দর্শকের। আহত সাংবাদিক মামুন রেজা জানান, কিছু বুঝে উঠার আগেই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। আব্দুল হালিম বলেন, একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাত্ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তার ডান হাত ভেঙ্গে দেয়। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, খায়রুলের মাথা ফেটে গেছে। এছাড়া তার পা’ ভেঙ্গে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন। এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সাউথ) আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।