তিনি আসছেন ‘রাত্রির যাত্রী’ নিয়ে
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৪, ১৯:৩৭
গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন, পথনাটক আন্দোলন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আর সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থার আন্দোলনের এক সক্রিয় কর্মীর নাম হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তার কর্মময় ব্যস্ততা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে লিখেছেন সৈয়দ শিশির
হাবিব যে নিজেকে শুধু আন্দোলনের মধ্যেই ধরে রেখেছেন তা কিন্তু নয়। তিনি একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিছুটা বিরতির পর এবার তিনি নতুন উদ্যমে শুরু করেছেন ডিজিটাল সিনেমা নির্মাণ। এ পর্বে তিনি নিয়ে আসছেন এক নতুন ভাবনার ছবি ‘রাত্রির যাত্রী’। সুন্দর যেকোনো গল্প নিয়েই তিনি নির্মাণ করতে চান আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডিজিটাল সিনেমা। দেশের মানুষকে আবারও হলমুখী করার আন্দোলনে তিনি নিজেকে সরাসরি সম্পৃক্ত রাখতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজেকে কখনোই আমি নির্দিষ্ট একটি বৃত্তের মধ্যে আটকে রাখতে চাই না। সব সময়ই নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখি এবং তা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ি।’ মঞ্চ নাটক দিয়ে হাবিবের পথচলা শুরু। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ব্যাপক জনপ্রিয় নাটক ‘ইদানীং তিনি ভদ্রলোক’-এর রচয়িতা ও নির্দেশক তিনি। ১৯৮৭ সালেই যে নাটকটির শততম মঞ্চায়ন সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৮২ সালে শুরু করার পর মাত্র ৬ বছরে একটি নাটকের সফলভাবে শততম মঞ্চায়ন নিঃসন্দেহে হাবিবের জন্য গর্বের বিষয়। ১৯৮৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রুপ থিয়েটার সংগঠন—প্রেক্ষাপট। নব্বই দশকের শেষ পর্যন্ত তিনি মঞ্চ নাটকে সক্রিয় ছিলেন। এ সময়ে তার রচনা ও নির্দেশনায় ৭টি নাটকের সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। ১৯৮০ সালের শুরুতে মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি তিনি মুক্তধারার চলচ্চিত্র নির্মাণেও মনোযোগী হন। নিজের রচনা, প্রযোজনা ও নির্দেশনায় ’৮৭ সালে ১৬ মিমি-তে তিনি নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বখাটে’। চলচ্চিত্রটি জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও পরে সেই বছর কর্তৃপক্ষ আর পুরস্কার ঘোষণা করেননি। পরবর্তীতে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে তিনি নির্মাণ করেন ‘বিজয়-৯০’। এ প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, ‘এটি রোকেয়া প্রাচী অভিনীত প্রথম ছবি। ছবিটিতে প্রয়াত সার্জেন্ট আহাদ সাহেবও অভিনয় করেছেন।’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পর নব্বই দশকেই তিনি টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপন নিয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে বিটিভেতে প্রচারিত হয় তার প্রথম নাটক ‘ভালোবাসা ভালোবাসায়’। পরবর্তী সময়ে নাটকটি দর্শক জরিপে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এ পর্যন্ত বিটিভিতে তার লেখা প্রায় ১৫টি নাটক প্রচারিত হয়েছে। এসব নাটকের মধ্যে ‘মনের মতো মানুষ’, ‘তুমি’, ‘সমাপ্তি অন্যরকম’, ‘ভালোবাসবে না কেন মন’, ‘পাভেল ও পুলিশ অফিসার’ উল্লেখযোগ্য। তার নির্মিত বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বসুন্ধরা সিমেন্ট, বসুন্ধরা বেবি ডায়াপার, শরীফ মেলামাইন, জাম্প কেড্স, বাংলাদেশ মেলামাইন, জিয়া প্রিন্ট শাড়ি। নদী ও পরিবেশ নিয়ে সরকারি উদ্যোগে ৩-৪ মিনিটের একাধিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি।
দেশে প্যাকেজ নাটকের যাত্রা শুরুর সময় তিনিও চিত্রনাট্য ও পরিচালনার মেধা নিয়ে এগিয়ে আসেন। বিটিভির জন্য নির্মাণ করেন ‘কি যে কষ্ট পলি’, ‘মাস্তান একটি মেয়ে’-এর মতো দর্শকপ্রিয় বেশ কিছু নাটক। এটিএন বাংলার যাত্রা শুরুর দিকে প্রচারিত হয় তার ২৬ পর্বের সিরিয়াল ‘গোয়েন্দা কাহিনী’। যে সিরিয়ালটি খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। একই চ্যানেলে পরবর্তীতে প্রচারিত হয় ‘সাদা রঙ’ (১৩ পর্ব), ‘নিউ ফাইল্স’ (৩৯ পর্ব), ‘গোয়েন্দা পাবলিক’ (৭ পর্ব), ‘আনন্দ বেদনা গন্তব্য’ (৪০ পর্ব), ‘ছবির মানুষ’ (২৬ পর্ব), ‘খাট্টা মিঠা’ (৩৯ পর্ব)-সহ বেশকিছু সিরিয়াল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলেছেন তিনি। আর তা হলো সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি জোর দেন। যে কারণে কাজ নিয়ে তিনি কখনও অস্থির হননি। হাবিবের ভাষ্যে, ‘আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের নির্মাতা হিসেবে।’ আর কাজ নির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ব্যাংক অব অডিও ভিজ্যুয়াল আর্টস’। বর্তমানে তিনি হেঁটে চলেছেন ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে। তার সাফল্যের ধারাবাহিকতার আলোকে বলা যায়, এ
পথেও তিনি সফল হবেন।