ভাণ্ডারিয়ায় আনন্দ উত্সব
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৪, ১৯:৪১
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র গণসংবর্ধনায়
ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নাগরিক সমাজ আয়োজিত শুক্রবার রাতে ভান্ডারিয়া হাসপাতাল মাঠে জাতীয়পার্টি জেপি চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দেয়া এক বিশাল সংবর্ধনা শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত লাখো দর্শককে মাতান ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজসহ একাধিক শিল্পী। জমকালো এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। প্রধান অতিথি পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব একেএমএ আউয়াল, বিশেষ অতিথি ভারতের আসাম প্রদেশের এম এল এ মজিবুর রহমান, এম এল এ শাহ আলম, পিরোজপুর জেলা প্রশাসক শামীমুল হক ছিদ্দিকী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা পারভীন, জাতীয় পার্টি জেপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল হক জমাদ্দার, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল, পিরোজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আশরাফ, উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তারসহ জাতীয় পার্টি জেপি, আওয়ামী লীগ তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভান্ডারিয়া থেকে ফিরে
প্রায় ১ মাস ধরে প্রস্তুতি। ইত্তেফাক অফিসের মেসবাহ ভাই অনেকদিন ধরেই বলছিলেন আমাদের প্রাণের শহর ভান্ডারিয়ায় এবারের ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজকে নিলে কেমন হয়। সেভাবেই প্রস্তুতি। এবারে আরো খানিকটা উদ্যোগী হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ ভাই। তার কথায়, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাকে ঘিরে অনুষ্ঠান তাই এবারে ভান্ডারিয়াবাসীও খানিক আনন্দে কাটাতে চায়। এর আগে বেশ ক’বার ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজের ইন্টারিভিউ নেবার সময় কথায় কথায় উঠতো বরিশাল প্রসঙ্গ। দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় তিনি কনসার্ট করেছেন। প্রশ্ন তুলতাম ভান্ডারিয়ায় কবে গাইবেন? যেদিন অতিথি করে ডাকবেন। অবশেষে ২ মে সেই দিনক্ষণ ধারণ হলো। মমতাজের অফিস কাম বাসাতে মহারাজ ভাইয়ের সাথে প্রথম আলাপ মমতাজের সাথে ভান্ডারিয়া কনসার্ট নিয়ে। কিভাবে অনুষ্ঠানটি কত বর্ণিল করা যায়। মমতাজ তার নিজস্ব সাউন্ড ও আলো এবং মিউজিশিয়ানের বুকিং দিলেন ফোনেই। বললেন এই এলাকায় প্রায় সকলেরই আমার গান মুখস্থ। তাই প্র্যাকটিস করতে হবে টানা দুদিন। মহারাজ ভাই বললেন,‘ আপা তারিখটা আপনি ডায়রিতে লিখে রাখেন। মমতাজ সাথে সাথেই রসিকতা নিয়ে বললেন, ‘সংসদীয় অনেক কাজ হয়তো ব্যস্ততার চাপে ভুলতে পারি। কোনদিন কখন কোন মঞ্চে গাইতে হবে এসবের জন্য আমার কোন সহকারী লাগে না। এই গান গেয়েই তো আমার সব। এত সম্মান আজকের এই অবস্থান। তাই এ নিয়ে ভাবতে হবে না।
অন্যান্য শিল্পীদের সংযোজন
পুরো আয়োজনে দেশসেরা শিল্পীরাই অংশ নেবে এমনটাই ঠিক করা হলো। এর ভেতরে অনুষ্ঠানের দিন সন্ধ্যা থেকে টানা মধ্যরাত অব্দি আয়োজনের অন্যান্য অনুষঙ্গে কী কী থাকবে সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হলো। কণ্ঠশিল্পী কাজী শুভ’র বাড়ি বরিশাল। তার অনেকদিনের ইচ্ছে নিজ এলাকায় একটি কনসার্টে গাইবার। সে অনুযায়ী বলতেই রাজী হয়ে গেলেন। বললেন, ‘মিউজিশিয়ানদের সাথে অন্তত একদিন প্র্যাকটিস করতে হবে। বাদক দল গিটারিস্ট চঞ্চল ভাইয়ের ‘ফাইভ স্টার’ তো সব থেকে ব্যস্ত। এ সময়ের বাঘা বাঘা সব শিল্পীদের বড় কনসার্ট মানেই তারা মিউজিশিয়ান। চঞ্চল ভাই বললেন, ‘অনুষ্ঠানের আগের দিন আমাদের কক্সবাজারে শো আছে। আমরা কক্সবাজার থেকে সরাসরি মাইক্রো যোগে ভান্ডারিয়া পৌছে যাবো। আমার কপালে হাত। কয়েকশত কিলোমিটার জার্নি করে ভান্ডারিয়ায় এসে তারা বাজাবেন কীভাবে? ক্লোজ আপ ওয়ান তারকা শশীকে ঠিক করা হলো। তাকে বলতেই বললেন, ‘অনেকগুলো গান গাইতে চাই। দুটি গানের বেশি সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু ভান্ডারিয়া মফস্বল হলেও ডিজিটাল যুগের হাওয়ায় এখন তারা ঢাকার সমানই খোঁজ রাখেন। তরুণ-তরুণের লাইফ স্টাইলও বদলেছে অনেকখানি। তাই বিভিন্ন কালচারাল অনুষ্ঠানে তারা যে দলীয় মডার্ন ড্যান্স দেখে অভ্যস্থ তা কেন থাকবে না আয়োজনে। বাংলাদেশের বড় ভেন্যুতে আন্তর্জাতিকমানের ইভেন্টে সবসময় যে নাচের দলটি মাতিয়েছে তা হলো তানজিলে ‘ঈগলস’। দেশসেরা সেই দলটিই ঠিক করা হলো। এভাবে ৮টি মাইক্রো যোগে তাই। আর মমতাজ তার সাথে ৩টি ট্রাকে শব্দ ও আলো। সবমিলিয়ে শিল্পী মিউজিশিয়ান হয়ে গেলো প্রায় ১ শতের কাছাকাছি।
অত:পর ভান্ডারিয়ায়..
গত কয়েকদিন ধরেই স্থানীয় রিকশাওয়ালাকেও জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, ‘শহর থাইকা মোগো মাডিতে শিল্পীরা আইবো। তাই হে বেলায় কাজ রাখুম না।’ এমন প্রস্তুতি ছিল প্রায় সকলের। আমরা একদল নিয়ে অগ্রদূত লঞ্চে। বাকিরা মাইক্রো যোগে। ভান্ডারিয়ায় মাসুদ ভাইয়ের দায়িত্ব ছিল শিল্পীদের অভ্যর্থনা জানানোর। সেই মতে দুপুর নাগাদ নাচের দলসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন্ন গেস্ট হাউজে পৌঁছে গেলেন। দুপুরে খেয়েই শিল্পীরা বেরিয়ে গেলেন শহর দেখতে। শহরের উত্সুক দর্শকেরা শিল্পীদের সাথে ছবি তুলতেই ব্যস্ত। যেন অনেকদিনের এক উত্সবের এই ক্ষণটির জন্যই তারা অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল থেকে আলোচনা ও সংবর্ধনা শেষ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেলে হাসপাতাল মাঠে হাজার দশেক মানুষ। তখন কেবল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। কিন্তু সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হতেই মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দর্শকদের কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেল অনেকেই এসেছেন মঠবাড়িয়া,পটুয়াখালী, বাকেরগঞ্জ থেকে। অনুষ্ঠান দেখেই তবে বাড়ী যাবেন।
মাঠের পেছনের গ্রীনরুম
স্থানীয় তরুণেরায় ছিল স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যের ভূমিকায়। অত:পর পুরো গ্রীনরুমে যখন শিল্পীপূর্ণ। তখন উত্সুক জনতা যেন রঙিন সামিয়ানা আর পর্দার আড়াল ছিঁড়ে ফেলতে চায়। কিছুক্ষণ বাদেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। মঞ্চে উঠেই ঘোষণা দিতেই সবাই বাঁধভাঙা উল্লাস। ঈগলসের পরিবেশনায় শুরু হলো। এরপর একে একে কাজী শুভ, মীরাক্কেলের জামিল -শশীর মজার হাস্যরসে কিছুক্ষণ হাসি। কণ্ঠশিল্পী শশীর গানের সাথে সুর মিলিয়ে লাখ মানুষের গান। আশেপাশের কয়েক জেলার সিকিউরিটিও যেন হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে শিল্পীদের অনুরোধে আবারও তারা শান্ত ও স্বচ্ছন্দ হয়েই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এর ভেতরে এলাকার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান গেয়ে শোনালেন এক জীবনমুখী গান। কখনও গান, নৃত্য কৌতূক আর ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজের পরিবেশনায় এ যেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক উত্সবের শহরে পরিণত হয়েছিল ভান্ডারিয়া।
ভান্ডারিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনের দায়িত্ব যখন কাঁধে নিলাম সেদিন থেকেই এক ধরনের টেনশনে ছিলাম। একসাথে এলাকায় সব কিছুর ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি প্রায় শতাধিক অতিথিদের নিয়ে তাদের এই উত্সব পরিচালনা সত্যিই অনেক কঠিন এক দায়িত্ব ছিল। তবে আমাদের ভান্ডারিয়ার প্রাণপুরুষ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাইয়ের সম্মানেই শিল্পী মমতাজ আপা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। সকল শিল্পীকুশলীদের কাছেই তাই কৃতজ্ঞতা।
মহিউদ্দিন মহারাজ
অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক
১. ভান্ডারিয়ার ওসি যখন কণ্ঠশিল্পীর ভূমিকায়। ২. কাজী শুভ গাইলেন ‘সোনা বউ শুনছোনিগো’। ৩. নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনায় সিক্ত জাতীয় পার্টি জেপি চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ৪. লাখো জনতার ঢল গানের আসরে ৫. হাস্যরস ছড়ালেন মঞ্চে মীরাক্কেল খ্যাত জামিল হোসেন ও শশী