পঞ্চগড়ে বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে ‘লুকোচুরি’

জেলা বিএনপির আহবায়কসহ দু’জনের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের হামলা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সভা না করে মনগড়াভাবে ৫ উপজেলা ও ২ পৌরসভার আহবায়ক কমিটি গঠনের খবরে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও এক সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে প্রথমে তারা আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এ মজিদের মসজিদপাড়াস্থ বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে তাকে মারপিট করে বাড়ির ক্ষতিসাধন করে। এরপর তারা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এ্যাডভোকেট এ হাসান প্রধানের রওশনাবাগস্থ বাসভবনে হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তেঁতুলিয়া রোডস্থ জেলা বিএনপি অফিসে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তেঁতুলিয়া সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জেলা বিএনপি অফিসের প্রধান ফটকে আগে থেকে লাগানো একটি তালার সাথে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরাও একটি তালা লাগায়। পুলিশ এসে আরো একটি তালা লাগিয়ে দেয়। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই পুলিশ তাদের তালা খুলে জেলা বিএনপি অফিসের প্রধান ফটকের ভেতরে অবস্থান নেয়। গতকাল সকালে জেলা বিএনপি’র ব্যানারে পঞ্চগড় কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুর আহবানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাচ্চু বলেন, গত ১০ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি’র কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। সেই সাথে এ্যাডভোকেট এ হাসান প্রধানকে আহবায়ক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়ক কমিটি গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিল করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এর মধ্যে আহবায়ক কমিটির কোনো মিটিং হয়নি। জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এ্যাডভোকেট এ হাসান প্রধান ও কমিটির সদস্য এম এ মজিদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ঢাকাস্থ বাসভবনে বসে উপজেলা ও পৌরসভার আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন যা গঠনতন্ত্র পরিপন্থি, নিয়ম বহির্ভূত ও দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনাকে অব-মাননা। এ জন্য তিনি চেয়ারপারসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অ্যাডভোকেট এ হাসান প্রধান ও সদস্য এম এ মজিদকে দল থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এ্যাডভোকেট এ হাসান প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৫ এপ্রিল ও ১ মে আহবায়ক কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের পরামর্শে এ সকল কমিটি গঠন করা হয়। বাসভবনে হামলার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পঞ্চগড় থানার ওসি একটি জিডি করেছেন। অন্যদিকে মারপিটের কথা অস্বীকার করে আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এ মজিদ বলেন, দলের উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতা-কর্মী আমার বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এ ব্যাপারে আমি থানায় মামলা করব।