স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই অবহেলা কাম্য নহে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া-ঝিনাইগাতী সড়কের কাঁটাখালি ব্রিজটি গত সাত বত্সর ধরিয়া খালের পানিতে ভগ্নদশায় পড়িয়া রহিয়াছে। ব্রিজটির সংস্কার বা পুনর্নিমাণের জন্য কোনো উদ্যোগ নাই। এলাকাবাসী এইজন্য বহু আবেদন-নিবেদন ও চেষ্টা-তদবির করিয়াছেন; কিন্তু এইসবই অরণ্যে রোদনে পরিণত হইয়াছে। উপায়ান্তর না দেখিয়া ভাঙিয়া পড়া ব্রিজটির পাশ দিয়া বাঁশের সাঁকো তৈরি করিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতেছেন ১০/১২টি গ্রামের শত শত মানুষ। উপজেলা সদরের সহিত যোগাযোগ রক্ষায় এই ব্রিজটির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই ব্রিজটির করুণ চিত্র দেখিয়া ও তাহার আদ্যোপ্রান্ত কাহিনি পড়িয়া আমরা বিচলিতবোধ না করিয়া পারিতেছি না। একটি ভাঙিয়া পড়া ব্রিজ কীভাবে বত্সরের পর বত্সর অবহেলা-অনাদরে পড়িয়া থাকে? সেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কি কোনো কাজ করিতেছে না? জনগণের সুযোগ-সুবিধা দেখভাল করিবার কথা যাহাদের সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসেবকদের কি এইক্ষেত্রে কোনো করণীয় নাই? ইহা কি তাহাদের বড় ধরনের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার পরিচায়ক নহে?

আমাদের ইত্তেফাক প্রতিনিধি জানাইয়াছেন, ব্রিজটির এই করুণ দশার কারণে স্থানীয় জনগণকে চার-পাঁচ কিলোমিটার ঘুরিয়া বহু কষ্টে বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করিতে হইতেছে। ইহাতে তাহাদের দুর্ভোগের অন্ত নাই। ৪০ ফুট দীর্ঘ এই ব্রিজটি প্রায় ৩০ বত্সর আগে নির্মিত হয় ‘কেয়ার’এর অর্থায়নে যাহার বাস্তবায়নকারী সংস্থা পিআইও বা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী অফিস। প্রথমে ২০১০ সালের পাহাড়ি ঢলে ব্রিজটির দুইপাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরিয়া গিয়া বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়। এই সময় ব্রিজটির প্রয়োজনীয় মেরামত করা জরুরি ছিল; কিন্তু তাহা না করায় দুই বত্সর পর আবার পাহাড়ি ঢলে ব্রিজটি পুরাপুরি ভাঙিয়া খালের পানিতে পড়িয়া যায়। তখন হইতে ব্রিজটি এই ভগ্ন অবস্থায়ই পড়িয়া রহিয়াছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় জনগণ দুর্ভোগ পোহাইয়া চলিলেও তাহারা ব্রিজটির  কোনো বিহিত করিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়া চলিয়াছেন। এই ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

শেরপুরের কাঁটাখালির এই ব্রিজটি একটি উদাহরণ মাত্র। আসলে সারাদেশে এই ধরনের শত শত ব্রিজ রহিয়াছে যেখানে জনগণ নিরন্তর কষ্টভোগ করিয়া যাইতেছেন। কোনো কোনো ব্রিজ বহু টাকা খরচ করিয়া তৈরি করা হইয়াছে ঠিকই; কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি না করিবার কারণে মানুষ তাহার সুফল লাভ করিতে পারিতেছে না। কোনো কোনো ব্রিজ এতটাই জীর্ণদশায় উপনীত হইয়াছে যে, মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতেছেন। কখনো কখনো ঘটিতেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও; কিন্তু ইহাতেও যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নির্বিকার ভূমিকা পালন করেন, তখন আমরা আশাহত না হইয়া পারি না। একটি ব্রিজ সাত বত্সর কিংবা তাহারও বেশি সময় ধরিয়া কেন ভাঙা অবস্থায় পড়িয়া থাকিবে? জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় এমপি-মেয়র-চেয়ারম্যানদের লাগিয়া না থাকিবার কারণেই এই পরিস্থিতির তৈরি হইয়াছে এবং আজ তাহাদের আন্তরিকতা নিয়া প্রশ্ন উঠিতেছে। আমরা আশা করি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সারাদেশের জনপ্রতিনিধি ও প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ স্বীয় দায়িত্ব পালনে আরো সক্রিয় ও আন্তরিক হইবেন।