মিস্টিক ফার্মার লাইসেন্স সাময়িক বাতিল
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৪, ২২:২৬
নিম্ন মানের ওষুধ উত্পাদনের অভিযোগে মিস্টিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উত্পাদন লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত শেষে কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যে ৭৩টি ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করেছিল তার মধ্যে অন্যতম এ কোম্পানি। সাময়িক বাতিলকৃত লাইসেন্সের আওতায় কোন প্রকার ওষুধ উত্পাদন, মওজুদ, বিক্রয় ও বিতরণ করা যাবে না।
নরসিংদী জেলায় অবস্থিত মেসার্স মিস্টিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উত্পাদিত ওষুধসমূহের মান নিয়ে দীর্ঘদিন নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে আসছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও তদন্ত করে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে ছিলেন ওষুধ প্রশাসন, নরসিংদীর ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক মো: রুহুল আমিন। তদন্ত শেষে তারা একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার ওষুধ উত্পাদনে জিএসপি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। প্রতিষ্ঠানটি কারখানায় অননুমোদিত/ অবৈধ উত্স হতে কাঁচামাল সংগ্রহপূর্বক ওষুধ উত্পাদন ও বাজারজাত কার্যক্রম পরিচালিত করছে। কারখানায় বিদ্যমান অব্যবস্থাদির মধ্যে মানসম্পন্ন ওষুধ উত্পাদন সম্ভব নয় বিধায় কারখানায় ওষুধ উত্পাদন অব্যাহত রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায়, অবৈধ উত্স হতে কাঁচামাল সংগ্রহপূর্বক ওষুধ উত্পাদন ও বাজারজাত করার দায়ে এবং যথাযথভাবে জিএসপি গাইড লাইন অনুসরণ না করে ওষুধ উত্পাদন কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানের ওষুধ উত্পাদন লাইসেন্স বিধি মোতাবেক সাময়িকভাবে বাতিল/ স্থায়ীভাবে বাতিল করা যেতে পারে।