দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখা

আমাদের দেশ বাংলাদেশ। ‘বাংলাদেশ’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে লাল-সবুজের স্মৃতিগুলো। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মধুর নাম হলো বাংলাদেশ। কেউ মেনে না নিলেও এটাই আমার কাছে সত্যি। কেননা আমি এদেশকে, দেশের স্বার্থকে ভালোবাসি। অনেকে হয়তো বলতে পারেন, দেশের স্বার্থকে ভালোবাসা সেটা আবার কেমন? আমি তাদের অন্ধ চোখে আঙুল দিয়ে সেটা দেখিয়ে দিবো। আমার কথা কারো কাছে মধুর মতো লাগতে পারে, আবার কারো কাছে তিক্ত। তবে এতে আমি আফসোস করবো না। একটি দেশ তখনই সুন্দর হয়, যখন সেদেশে বসবাসকারী লোকেরা সুন্দর হয়। একটি দেশ চায় আমার বুকে যারা বসবাস করবে তারা যেন আমার জন্য, আমার স্বার্থের জন্য কাজ করে। একটি দেশ চিত্কার করে বলতে থাকে হে লোকগণ, তোমরা আমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলো। আমার বুকে বসবাসকারী সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করো। আর এটাই হলো আমার স্বার্থ। একবার ভেবে দেখুন তো সমান অধিকারের বাস্তবায়ন কি হয়েছে? না, হয়নি। কারণ, আমাদের সমাজে কিছু লোক আছেন, যারা নিজের স্বার্থে সবসময় অটল থাকেন। দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনো কথা বলেন না। কেননা বললে তো আরামের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। আমার কথাগুলো শুনে অনেকের হয়তো শরীরের ভিতর অগ্নিশিখা জ্বলছে। এতো সাহস! ছোট লোকের বড় কথা। অবশ্য আমি ঐ সকল স্বার্থপর লোকের কথায় একটুও কান দিবো না। গ্রামে মায়েদেরকে অনেক সময় বলতে শুনেছি একটি ডায়ালগ। সেটা হলো, ‘উচিত কথা কইতে গেলে খুচিত লাগে ঘা’। এজন্য স্বার্থবাদীদের একটু আঘাত লাগাটাই স্বাভাবিক। সোনার বাংলার সোনার কৃষকেরা ভোর প্রভাতে উঠে মাজায় গামছা বেঁধে, লাঙল-জোয়াল সঙ্গে নিয়ে, মাথায় টোকা পরে মাঠের পথে রওনা হয়। তারপর? তারপরে জমিতে চাষ দিয়ে ফসল ফলায়। আর তখন থেকেই একজন কৃষকের সাধনা শুরু হয়ে যায়। কেননা সাধনাই হলো প্রাপ্তির মূল বিষয়। এটা ব্যতীত কোনো উন্নতি লাভ করা যাবে না। আর এজন্য একজন কৃষকের অবিরাম সাধনা চলে। কেননা সাধনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব।

কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে, আমাদের দেশে কৃষকের অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের জীবন আজ অভাবের কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। বারবার আন্দোলন করা সত্ত্বেও তারা আজ ব্যর্থ। কারণ, আমাদের দেশের মানুষ আপন মানুষকেই চিনতে পারছে না। যাদের উপর এদেশের অস্তিত্ব টিকে আছে তারাই আজ অবহেলিত।

অধিকার আদায়ের জন্যও সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সমাজে বসবাসকারী রক্তচক্ষু মানুষগুলোকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে অধিকার আদায়েও মানুষ সচেতন আছে। রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টস কর্মী, কৃষক-জেলে, কামারকুমার ও একজন দিনমজুরের কষ্টের সীমা নেই। তারাই হলো সোনার বাংলার প্রাণশক্তি। অথচ সমাজে এদের কোনো মূল্যায়ন নেই। ছি! এদেরকে নিয়ে চিন্তা নিঃসন্দেহে বোকামির কাজ। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন তো, সত্যিই কি বোকামির কাজ? না,  কোনোভাবেই বোকামির কাজ নয়। কেননা তারাই হলো জাতিকে টিকিয়ে রাখার ধারালো সৈনিক। আর এজন্যই তাদের উন্নয়নে সকলের শুভ দৃষ্টি দিতে হবে। তখনি দেশের স্বার্থও হাসিল হয়ে যাবে। তাদেরকে বাদ দিয়ে একটি দেশের উন্নয়ন আশা করা যায় না। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষের বিরাম নেই। বিরামহীন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সফলতা কি পাচ্ছে? হ্যাঁ, কারণ একটি সুষ্ঠু নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই সফলতা পাওয়া যায়। মানুষের অধিকারের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। আর তখনই সেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সর্বস্তরে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যায়। অবশ্য এর একটা কারণ আছে। মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেলে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে। নিজেকে একটি শক্তির উত্স মনে করে। আর সেই শক্তি স্বদেশের স্বার্থে ব্যয় করে, নিজের স্বার্থে নয়। আর তখনি দেশের স্বার্থও হাসিল হয়ে যায়। মানুষ যখন তার ছিনিয়ে নেওয়া অধিকার ফিরে পায়, তখন তার হূদয়ে কিছু আশার বীজ বপন হয়, নবসৃজনের ঘণ্টা বাজতে থাকে। আর সে সৃষ্টির পথে অবিচল থাকে। দেশের উন্নয়নও ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে। কেননা দেশের মানুষের উন্নয়ন হলে দেশ উন্নত হবে। কিন্তু দেশের উন্নয়নের পথে কিছু নিজ স্বার্থবাদী লোক বাধার সৃষ্টি করে। এরা খুবই ভয়ংকর। এদেরকে ধ্বংস করতে পারলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আর আমরা একটি উন্নতজাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে বসবাস করতে পারবো।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ