নাশকতা ঠেকাতে পশ্চিম রেলে বিশেষ টহল
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৪, ২২:৫৪
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগে হঠাত্ করেই বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেল পুলিশ সদস্যদের। জঙ্গি তত্পরতা ও রেল পথে নাশকতা মোকাবেলায় পাকশী রেল বিভাগের ২৪টি স্টেশন, রেল ইয়ার্ড, রেল লাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় চলতি সপ্তাহ থেকে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ কমান্ডেন্ট এর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিভিন্ন মামলার রায়ের পর জামায়াত-শিবির রেলের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক নাশকতা চালায়। যে কোন সময় আদালতে যুদ্ধাপরাধী মামলার আপিলের রায় ঘোষণা হলে আবারো রেলে জঙ্গি তত্পরতা ও নাশকতা হতে পারে বলে আশংকা করে এই সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। একারণে নিয়মিত ডিউটির পাশাপাশি ৫০ জন অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রহরী ২৪ ঘণ্টা বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা, যশোর, দর্শনা, রাজবাড়ি, পাকশী, ঈশ্বরদী, সৈয়দপুর, সান্তাহার, পার্বতীপুরসহ ২৪টি স্টেশন, ইয়ার্ড, রেল স্থাপনা ও লাইনে নিরাপত্তা প্রহরীদের পেট্রোলিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখাও বিশেষভাবে তত্পর রয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহরী ও পুলিশ সদস্যরা বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন। ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ডের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত সদস্যরা জানান, তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে পালাক্রমে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, রেলে নাশকতা ও জঙ্গি হামলার আশংকায় রেল পুলিশ ঈশ্বরদী জিআরপি থানার আওতাধীন ৬৬ কিলোমিটার রেলপথে নিরাপত্তার জন্য তারাও বিশেষ টহল দিচ্ছেন। বিশেষ করে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য তারা রেল প্রহরীদের সাথে নিয়ে কাজ করছেন। রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ স্টেশন, সেতু, লোকো, ওয়ার্কসপ ও রেললাইন ও ট্রেন গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ কমাডেন্ট আমিনুর রশীদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পেয়ে রেলের স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তাদের বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।