স্পোর্টস রিপোর্টার
অন্য কেউ বললে বিশেষণটা হয়ত ঔদ্ধত্য বলে মনে হতো। কিন্তু তার কণ্ঠে কিছুই বেমানান নয়। তাই তিনি নিজেকে বলেন— ইউনিভার্স বস!
হ্যাঁ, ক্রিস গেইল। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নিজে অনেকবারই প্রমাণ করেছেন তিনি ‘ইউনিভার্স বস’। তিনি হয়ত সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের কাতারে থাকবেন না। কিন্তু ব্যাটিংকে যদি বিনোদন বলে মনে করা হয়, তাহলে এই বিনোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে পৃথিবীর বাকি বেশিরভাগের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন ক্রিস গেইল। এবার বিশ্বকাপকে আরেকবার লক্ষ্য বানিয়েছেন পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দানব।
এই ৪০ বছর বয়সেও গেইল মনে করছেন, এখনো তিনি তরুণদের মতো রোমাঞ্চিত বিশ্বকাপের আগে। নিজের প্রথম বিশ্বকাপের মতোই রোমাঞ্চ অনুভব করছেন তিনি। এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বড় একটা দাগ কেটে রেখে যাওয়াটাকে তিনি তাই লক্ষ্য বানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডে গেইলের রেকর্ড চিরকালই ভালো। মাত্র কয়েক মাস আগে স্বাগতিক ও ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুরন্ত ব্যাট করে গেছেন এখানে। ১০৬ গড়ে ৪ ইনিংসে ৪২৪ রান করেছেন সেই সিরিজে; এর মধ্যে ৩৯টা ছক্কা ছিল।
গেইল বলছিলেন, এই বয়সে ব্যাটসম্যানদের শাসন করাটা সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু এখনো তিনি সেই ক্ষমতা রাখেন। আর বোলাররা এখনো তাকে ভয় পায় বলেই দাবি করছেন তিনি, ‘তরুণরা আমার মাথা লক্ষ্য করে বল করতে চায়। আগে আমি যেভাবে ব্যাপারটা সামলাতাম, এখন ততোটা সহজ নয়। তখন আমি আরো দ্রুতগতিতে নড়তে পারতাম। তবে মজাটা হলো, ওরা (বোলাররা) আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকবে। তারা জানে, ইউনিভার্স বস চাইলে কী করতে পারে। আমি নিশ্চিত, তাদের মনের মধ্যে এটা বলে উঠবে যে, ‘হেই, এই সেই লোক, ক্রিকেটে আমাদের দেখা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর লোক।’
গেইল বলছিলেন, ক্যামেরার সামনে না হলেও পেছনে সব বোলার স্বীকার করবেন যে, তারা গেইলকে ভয় পান। এই মজার মানুষটির স্বীকারোক্তি, ‘ওদের ক্যামেরার সামনে জিজ্ঞেস করুন, তারা বলবে, না, তারা ভয় পায় না। কিন্তু ক্যামেরার পেছনে জিজ্ঞেস করুন, তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, এই সেই লোক। এই সেই লোক।’
আর বোলারদের সঙ্গে এই লড়াইটা চিরকালই গেইল খুব উপভোগ করেন বলে বলছিলেন। তার দাবি, ‘আমি সবসময় বোলারদের সঙ্গে লড়াইটা উপভোগ করি। এটা খুব ভালো। কখনো কখনো এতে বাড়তি ভালো করার প্রেরণা পাওয়া যায়। যখনই কোনো লড়াই হয়, আমি সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে পছন্দ করি।’
গেইল সবসময়ই আনন্দ দিতে পছন্দ করেন। তিনি খানিকটা সময় উইকেটে থাকা মানেই ছক্কার বৃষ্টি হওয়া।
তিনি বলছিলেন, সমর্থকরাও আরো ছক্কা চায়। আর সমর্থকদের এই চাওয়াই তাকে আরো ছক্কা মারতে উত্সাহ দেয়, ‘ভক্তরা সবসময় চায়, আমি যেন আরো ছক্কা মারি। আর এতে আমার উত্সাহ আরো বেড়ে যায়।’