স্পোর্টস রিপোর্টার
অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনেই আফগানিস্তান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব বলেছিলেন, তারা এই বিশ্বকাপ থেকে আফগানদের জন্য আরো কিছু সুসংবাদ নিয়ে যেতে চান। অভিযানের শুরুতেই, অনুশীলন ম্যাচে সেই সুসংবাদ পেয়ে গেছেন তারা। বিশ্বকে চমকে দিয়ে শক্তিশালী পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে আফগানিস্তান। আর এই জয়কে দেশের মানুষের জন্য অনন্য এক উপহার বলছেন নাইব।
অনুশীলন ম্যাচের প্রথম দিনের অন্য ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব বলছিলেন, ‘এটা অসাধারণ এক জয়। এই দিনটার জন্য আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। এটা আফগানিস্তানের জন্য, আফগানিস্তানের মানুষের জন্য অসাধারণ এক উপহার। দিনের শুরুতে উইকেট দেখে মনে হয়েছিল, উইকেট ফ্লাট। মনে হচ্ছিল, ৩০০-এর বেশি রান হবে। ফলে আমাদের বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। নবী ও রশীদ যেভাবে বল করেছে, তাতেই আমরা ওদের ২৬০ রানের নিচে আটকে রাখতে পেরেছি।’ গুলবাদিন এখন স্বাভাবিকভাবেই মূল টুর্নামেন্টেও এমন একটা ফল আশা করছেন, ‘আপনি যদি পাকিস্তানের দিকে তাকান, ওরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের সহজভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিশ্বকাপে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। আমরা আমাদের সেরাটা করব।’
এদিকে এই পরাজয়ের পর ব্যাটসম্যানদের আরো একবার দুষেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, তারা ১৫-২০ রান কম করতে পেরেছেন, ‘অবশ্যই স্কোর বোর্ডে যথেষ্ট রান ছিল না। আমরা ১৫-২০ রান পিছিয়ে ছিলাম। আর বল হাতে আমরা ভালো শুরু করতে পারিনি। এ জন্যই হেরে গেছি। এভাবে হারতে থাকলে আমাদের কাজটা কঠিন হবে। আমি ছেলেদের বলেছি, নিজেদের সমর্থন দাও। আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। আমরা দ্রুতই ভালো করতে শুরু করব। আমাদের স্রেফ নিজেদের ভেতর আলাপ করে কাজটা শুরু করা দরকার।’ ব্রিস্টলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করা পাকিস্তান ৪৭.৫ ওভারে ২৬২ রানে অলআউট হয়েছিল। বাবর আজম দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১২ রান করেন। এ ছাড়া শোয়েব মালিক ৪৪ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ নবী ৩টি ও রশীদ খান ২টি উইকেট নেন।
জবাবে আফগানরা শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলিংয়ের ওপর চড়াও হয়। ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই ২৮ বলে ৪৯ রান করেন। রহমত শাহ করেন ৩২ রান। এরপর হাসমাতউল্লাহ শহীদি ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। মাঝে নবী এসে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে ওয়াহাব রিয়াদ দ্রুত ২ উইকেট তুলে নিলেও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অন্যদিকে কার্ডিফে আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর করে। অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস ৮৮ রান করেন। এই ম্যাচ দিয়ে রানে ফেরা হাশিম আমলা করেন ৬৫ রান। সুরঙ্গ লাকমল ও নুয়ান প্রদীপ ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে শ্রীলঙ্কা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারালেও করুনারত্নে ৮৭ রান করে লড়াই করছিলেন। সাথে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৬৪ রান করেন। কিন্তু শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ২৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফেলুকওয়াও ৪টি উইকেট নেন ৩৬ রানে।