আলোচিত সেই ডায়েরির রেফারেন্স কপি দুদকে

বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলার আলামত হাতে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের কাছে রক্ষিত রমেশ শাহ’র আলোচিত ডায়েরির রেফারেন্স কপিসহ বেশ কিছু আলামত দুদকের হাতে এসেছে। এসব আলামত হাতে পাওয়ায় দুদক মনে করছে আগামী দুই মাসের মধ্যেই এ দুর্নীতি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, আদালতে উপস্থাপনযোগ্য সব ধরনের তথ্য ও আলামত আমরা পেয়েছি। এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে তদন্ত কাজে গতি আসবে এবং খুব শিগগিরই তদন্ত কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, কানাডায় থাকা মামলার আলামতগুলো কয়েকটি ধাপে বাংলাদেশে আসে। এসব আলামতের মধ্যে রয়েছে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের কাছে রক্ষিত রমেশ শাহ’র আলোচিত ডায়েরির রেফারেন্স কপি ও এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইলের বক্তব্য, ষড়যন্ত্র মামলায় আলামত হিসেবে প্রয়োজন এমন নথিপত্র। তাই দুদক মনে করছে, এই আলামতের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলার সফল পরিণতি সম্ভব। জানা গেছে, কানাডিয়ান রয়েল মাউন্টেড পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ শাহ’র একটি ডায়েরি জব্দ করে। ওই ডায়েরিতে সেতুর পরামর্শক নিয়োগে ঘুষ প্রদানের একটি তালিকা পাওয়া যায়। সেই তালিকায় লেখা আছে, কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এদের কিছু অর্থ দিতে হবে। কাকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, ওই তালিকায় তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় আসামিরা হলেন- সেতু বিভাগের প্রাক্তন সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ এবং প্রাক্তন পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও সৈয়দ আবুল হোসেন এবং আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখা হয়েছিল।