ইংলাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগপত্র দায়ের
প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৪, ২৩:০৯
আদালতের রায়ে থাইল্যান্ডের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগপত্র দিয়েছে সেদেশের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কমিশন (এনএসিসি)। কমিশনের প্রধান প্যানথেপ ক্লানারং গতকাল বৃহস্পতিবার একথা জানান। তিনি বলেন, ইংলাকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কমিশন পূর্ণ তদন্ত করেছে এবং অভিযোগপত্র দেয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। এখন বিষয়টির উপর সিনেটে শুনানি ও ভোটাভুটি হবে। একই সাথে কমিশন জানিয়েছে, ইংলাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। ইংলাক যদি দোষী প্রমাণিত হন তবে পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হবেন।
ক্ষমতার অপব্যবহারে দায়ে সাংবিধানিক আদালতের নির্দেশে বুধবার ইংলাক প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বিধিবহির্ভূতভাবে সাবেক নিরাপত্তা প্রধানকে পদচ্যুত করায় ইংলাকের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক আদালতে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল দেশটির কয়েকজন সিনেট সদস্য। পদত্যাগ করলেও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তার সমর্থকরা এমনটিই মনে করছেন। কিন্তু এনএসিসির উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নির্বাসনে যেতে হবে তাকে। প্রায় এক দশক ধরে থাইল্যান্ডের অভিজাত শ্রেণীর সঙ্গে ইংলাকের ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরোধ চলছে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইংলাকের পদচ্যুতি সেই বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চালের মূল্যে ভর্তুকি দেয়া বিষয়ক ইংলাক সরকারের একটি প্রকল্পের কারণে রাষ্ট্রের কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল কিছুদিন আগে। অভিযোগ ওঠে, থাইল্যান্ডের কৃষকদের কাছ থেকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়ে চাল কিনেছিল ইংলাকের সরকার। এই ঘটনায় ইংলাক সরাসরি জড়িত না থাকলেও তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়। গতকাল এনএসিসি’র বৈঠকে চালক্রয় প্রকল্পে ইংলাক দোষী না নির্দোষ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদে ইংলাক নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের নীতি অনুমোদন করা ছিল তার কাজ। প্রতিদিনের ক্রয়বিক্রয়ের হিসাব রাখা তার দায়িত্ব ছিল না।