বর্ষার আগে পাহাড়ের বসতি সরানো হবে
প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৪, ২৩:১০
বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রামের প্রশাসন। আসন্ন বর্ষার আগেই তাদের সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এজন্য শিগগিরই মাইকিং, লিফলেট ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হবে।
প্রাথমিকভাবে বসতিগুলো সরিয়ে নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন। পরে যারা এসব পাহাড় দখল করে অবৈধ বসতি গড়ে তোলার বাণিজ্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ জানিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে যা যা করণীয় তা করতে প্রশাসন পিছপা হবে না বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রামে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ১৫ সদস্যের পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এসএম আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটি আজ শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করবে। কমিটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসন যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করবে। এছাড়া অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং পুনর্বাসনের স্থান নির্ধারণ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বাদশ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিডিএ, রেলওয়েসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির পরবর্তী সভায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় চিহ্নিত করে পুর্নবাসনের প্রক্রিয়াসহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক জাফর আলম বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কারণে পাহাড়গুলোতে অবৈধ বসতি স্থাপিত হচ্ছে। অবৈধ বসতি স্থাপন রোধ করা না গেলে কেবল সাময়িক পুনর্বাসনের মধ্যদিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. ইয়াহিয়া বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে আমাদের ৭ হাজার ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। তাদেরকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি আকারের দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস সক্ষম। তবে বড় দুর্যোগ হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।