হিপ প্রতিস্থাপন
অধ্যাপক (ডা.) এম.আমজাদহোসেন
প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৪, ২০:৪৪
হিপ এর সমস্যা বয়স এর উপর নির্ভর করে ভিন্নতর হয়। তাই একে অন্যের থেকে আলাদা ধরণের সমস্যা নিয়ে রোগীরা চিকিত্সকের কাছে আসেন। যেমন জন্মের পরপর হয় ডিডিএইচ (ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লাসিয়া অব হিপ) এছাড়া ট্রানজিয়েন্ট সাইনুভাইটিস পারথেস ডিজিজ, সিল্পিড ক্যাপিটাল ফিমোরাল ইপিথাইসিস ইত্যাদি। প্রতিটি সমস্যার আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে উপরোক্ত সমস্যাগুলো জটিল আকারে দেখা দেয় এবং রোগীরা আর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না, তখন প্রয়োজন হয় সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপনের। এছাড়া মধ্য বয়সে শুরু হয় এভিএন ( ভাসকুলার নেক্রোসিস অফ ফিমোরাল হেড), রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও এনক্লাইওসিং স্পনডাইলাইটিস যা মেডিসিন দ্বারা চিকিত্সার পরও রোগীরা হাঁটাচলা করতে পারে না। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপনই ভাল উপায়।
ফ্রেকচার নেক অফ ফিমার-এর প্রথম ধাপে চিকিত্সা হলো স্ক্রিউ ফিকজেশন (বয়স ৫৭এর কম) কিন্তু এই অপারেশনের সফলতার হার ৬৭-৬৮%। তাদের মধ্যে আবার অনেকেই পরবর্তীতে ফিমার হেড-এর এভিয়েন নিয়ে আসে। আবার ৬০ এর বেশি বয়সে ফেকচার নেক ফিমার-এর চিকিত্সা হলো-হেমি আরথ্রোপ্লাস্টি কিন্তু অপারেশনের ৩-৫ বছরের মধ্যে অনেকেই থাই পেইন-এর জন্য কষ্ট পায়। আবার বেশির ভাগ রোগীরা হাঁটতেই পারে না। তাই বলা যায় জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপন।
হিপ রিপ্লেসমেন্ট
হিপ রিপ্লেসমেন্টে উরুর হাড়ের মাথা এবং সামনের দিকের কিছু অংশ ফেলে দেয়া হয়। তারপর নিতম্বের কোটর ফেলে দিয়ে সেখানে প্লাস্টিক বা ধাতব
কোটর বসানো হয়। এরপর
দুটি হাড় প্রাকৃতিকভাবে যেভাবে থাকে সেভাবে স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন ধরণের কৃত্রিম অস্থিসন্ধি
হিপ রিপ্লেসমেন্টের জন্য পাওয়া যায়।
কখন চিকিত্সকের শরনাপন্ন হবেন
যদি ব্যথার জন্য রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হয়।
ওষুধে যখন ব্যথার উন্নতি হয় না
সিঁড়ি দিয়ে নামতে বা উঠতে গেলে সমস্যা হয়।
বসা থেকে দাঁড়াতে সমস্যা হয়।
যখন অতিরিক্ত ব্যথার কারণে, প্রতিদিনকার অভ্যাস যেমন
হাঁটা-চলা থেকেও বিরত
থাকতে হয়।
যখন হিপ রিপ্লেসমেন্ট
হিপ রিপ্লেসমেন্টের কথা তখনই বিবেচনা করা হয়, যখন অন্যান্য চিকিত্সা আর রোগীকে উপশম করতে পারে না। কোমরের ইনজুরি, রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, হাড়ের ক্ষয়, হাড়ের টিউমার, অস্থিতে
রক্ত সঞ্চালন বন্ধসহ অন্যান্য অসুখেও হিপ রিপ্লেসমেন্ট করা যেতে পারে। সাধারণত:
৬০ বা অধিক বয়সের ব্যক্তিদের জন্য হিপ রিপ্লেসমেন্ট উপযোগী। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদী কৃত্রিম অস্থিসন্ধি ব্যবহার করে অল্পবয়সী রোগীদেরও আজকাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট করা হচ্ছে।
অস্ত্রোপচারের পরের অবস্থা
সাধারণত: দুই থেকে তিন
ঘন্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
হয়ে যায়। এরপর দু-তিন দিন হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়। এক-দুই দিনের মধ্যেই উঠে বসা যায়, এমনকি হাঁটা-চলা করার পরামর্শও দেয়া হয়ে থাকে।
বাসায় ফিরে যাওয়ার পর চিকিত্সকের দেয়া কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হয়। যেমন, পায়খানার জন্য উঁচু কমোড ব্যবহার করাসহ কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম।
দেড় থেকে দুই মাস পর চিকিত্সকের সাথে দেখা করে
উন্নতি যাচাই ও পরামর্শ নিতে
হয়। এবং ৯০ ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি সফল হয়ে থাকে।
চিকিত্সা খরচ
প্রতিস্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল এক চিকিত্সা। তবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এই খরচ কমিয়ে এনেছে বহুগুণে। কোমর এবং হাঁটু প্রতিস্থাপনে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের খরচ অত্যন্ত কম।
লেখক : চিফ কনসালটেন্ট
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ
ল্যাবএইড স্পেশালাইজড
হাসপাতাল, ঢাকা।