ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের টানা আন্দোলনে অচল চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের টানা আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রলীগের একাংশ। বৃহস্পতিবার সকালে হোস পাইপ খুলে দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এসময় এক চালককে মারধর করা হয় বলেও জানা গেছে। চালক মারধরের ঘটনায় আবারো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রুটে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলী জানান যে তাদের এক সহকর্মীকে অপহরণের পর তারা বৃহস্পতিবার এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেল কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ট্রেন চালাতে বললেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। ফলে শুক্রবার থেকে আবারো ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক নাসির হায়দার বাবুলের লাঞ্ছনাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে সেখানে ছাত্রলীগের একাংশের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। অবরোধকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের মদদে ছাত্রলীগ নামধারী একটি অংশের নেতৃত্বে নাসির হায়দারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। অন্যদিকে শাটল ট্রেন চালকের উপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তারা পরে উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টর মহোদয়ের সাথে সাক্ষাত্ করেন এবং ট্রেন চালকের উপর হামলার সাথে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ বিষয়ে প্রক্টর সিরাজ উদ্দৌলাহ বলেন, আমরা সবার সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছি। আর যেসব ছাত্র কোন কারণ ছাড়া ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি গড়ে তুলছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।