আসুন তামাক জাতীয় দ্রব্য বর্জন করি

বাংলাদেশে ধূমপানবিরোধী আন্দোলন চলছে। লেখালিখি হলেও তামাক চাষের প্রসঙ্গটি উপেক্ষিত থাকছে। বাংলাদেশ সরকার ১৬৮টি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই আছে। তামাক চাষ বন্ধ করে ফসলের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কতটুক ভূমিকা আছে কৃষি অধিদপ্তরের? তামাক হলো অন্যান্য আসক্তির উত্স এবং ক্যান্সারের জন্য এককভাবে চিহ্নিত উপাদান। তাই আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা দিতে হবে তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে। তামাক ও তামাক জাতীয় দ্রব্য ব্যবহারবিরোধী আন্দোলন স্বাস্থ্যসচেতন উন্নত বিশ্বে শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে। সেখানকার তামাক কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা চালাচ্ছে ঐসব দেশে। অন্যদিকে বাজার খুঁজছে আমাদের মতো অনুন্নত দেশসমূহে। তারা নতুন নতুন বাণিজ্য কৌশল উদ্ভাবন করছে। তাই আজ তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জোরালো প্রচার ও আইনগত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে সকল পর্যায়ে কাজ করতে সচেতন হতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ কোটির বেশি লোক তামাক, গুল, খইনি, জর্দা, পস্বি, তামাক পাতা ব্যবহার করছে। আমাদের দেশসহ বিশ্বময় তামাক নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারবিরোধী কার্যক্রম ধীরে ধীরে ব্যাপকতা লাভ করছে। এটা দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। যারা তামাক ব্যবসার ধারক ও বাহক তারা আবার অর্থসম্পদে, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে অনেক বেশি শক্তিশালী। আর আমরা সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র জনবল। কাজেই এই শক্তি মোকাবেলা করতে প্রশাসনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে শক্তিশালী জোট গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের উদ্দেশ্য মহত্ ও লক্ষ্য অভিন্ন। আইন হয়েছে জরিমানা হয়েছে ধূমপানের জন্য। তারপরও ধূমপান বন্ধ হয়নি। একক দেশের পক্ষে তামাক নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল ও কঠিন কাজটি করা সম্ভব নয়। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কিছু উন্নত দেশের শহর এলাকা সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখার ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো কোনো দেশে ১৮ বয়সের নিচে কোনো কিশোরকে সিগারেট বিক্রি করতে না দেওয়ার আইন প্রণয়ন হয়েছে। আমাদের দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি কার্যকর করার পথে নানা ধরনের বাধা বিপত্তি রয়েছে। ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক সেবন করে। ধূমপানের তুলনায় দেশে ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের হার বেশি। ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার নারীদের মধ্যে বেশি। বাংলাদেশের ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যগুলোর মধ্যে জর্দা, গুল, খৈনি, শাদাপাতা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের ৩৫টি জেলায় ১৪১ কারখানায় জর্দা ও গুল উত্পাদিত হয়। এর মধ্যে ১২০টি জর্দা কারখানা এবং ২১টি গুল কারখানা। সাইনবোর্ড বা নাম ফলক না থাকায় বেশিরভাগ কারখানাকে চিহ্নিত করা যায়নি। বেশিরভাগ জর্দা ও গুল প্লাস্টিক বা টিনের কৌটা, পলিথিন বা কাগজের প্যাকেটে পাওয়া যায়। প্যাকেটের আকার ১০ থেকে ৫০ গ্রাম, দাম সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে ৪৫ টাকা আর গুলের দাম ২ টাকা। জর্দা ও গুলের ১৪১টি কারখানাতে ৩৭,০০০ শ্রমিক কাজ করে। যার মধ্যে প্রায় ১৬,৫০০ পুরুষ এবং ১৫, ৫০০ নারী। আর ৫,০০০ শিশুশ্রমিক। যদিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এ ধরনের কারখানায় শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। এ অবস্থায়, ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যগুলোর ওপর উচ্চহারে করারোপ করে এসব পণ্যকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে এসব কারখানাকে করের আওতায় আনার জন্য কর প্রশাসনকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের ওপর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বাধ্যবাধকতাসমূহ শক্তভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আর তাই শুধু আইন থাকলেই চলবে না এর বাস্তবায়নে তামাক বর্জন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। এই প্রয়াস যত বেশি জোরদার হবে লক্ষ্য অর্জনের পথও তত বেশি কার্যকর হবে। তামাক ও মাদক ভয়াবহ ছোবলে জাতি শেষ হয়ে যাবে। এ কথা ভুললে চলবে না শিক্ষিত সমাজকে সকল দায়ভার নিতে হবে। আসুন আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হই। দিনাজপুর