সৈয়দপুরে গুল শ্রমিকরা ক্ষতিকারক
প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নয়
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৪, ২২:০৫
গুলের প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও হূদরোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত
হচ্ছে মানুষ
সমগ্র উত্তরাঞ্চলের বাজার দখল করে আছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের গুল। এছাড়াও রাজধানীর কিছু অংশ ও খুলনা বিভাগেও সৈয়দপুরের গুলের বিশেষ কদর রয়েছে। এতবড় বিশাল বাজার সামাল দিতে এখানকার গুল ফ্যাক্টরিগুলোকে কখনও কখনও হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় কার বাজার কে দখল করবে এনিয়ে গুল ফ্যাক্টরিগুলোতে রীতিমত প্রতিযোগিতা চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। যার ফলে দিন-রাত মিলিয়ে তিন শিফট চালু থাকছে গুল কারখানাগুলো।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গুল উত্পাদন প্রক্রিয়ার সাথে। জানা গেছে, এ বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই মানব শরীরে গুলের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে কিছুই জানে না বরং নিজেরাই আসক্ত গুলের নেশায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা আক্রান্ত হচ্ছে জটিল রোগ-ব্যাধিতে। এজন্য মালিক পক্ষ তাদের দেয় না স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কোনো পরামর্শ। ধূমপানের বিরুদ্ধে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাজ করলেও গুলের ক্ষেত্রে তা লক্ষ্য করা যায় না। স্থানীয় চিকিত্সকদের মতে, ধূমপানের চেয়ে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হচ্ছে গুল।
তাদের মতে, গুল সেবনের ফলে তা সরাসরি চলে যায় মানুষের পাকস্থলিতে। আর এর প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও হূদরোগসহ জটিল সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন যত রোগী চিকিত্সকদের কাছে ব্যবস্থাপত্র নিতে আসে তার অধিকাংশই দীর্ঘদিন গুল সেবনের ফলে ওইসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তামাক গুলের প্রধান উপকরণ। এই তামাক রোদে শুকিয়ে ক্র্যাসিং মেশিনে ডাস্ট তৈরি করে তার সাথে চুনসহ আর একটি রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি হয় গুল।
অভিযোগে জানা গেছে, তামাক ক্র্যাসিং মেশনগুলোর অধিকাংশের অবস্থান শহরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়। যখন এসব মেশিন চলে তখন তামাকের ধূলায় ধূলিময় হয়ে যায় সংলগ্ন পুরো এলাকা। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে দু’একটি ক্র্যাসিং মেশিন মালিকপক্ষ সরিয়ে নিলেও অধিকাংশই রয়ে গেছে আবাসিক এলাকায়।