মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার মোকামতলা থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ ধীর গতিতে চলায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ১৯৫ কোটি টাকার এই কাজ আগামী জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে সওজ থেকে একাধিকবার ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট থেকে মোকামতলা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই ধারে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য গত ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ১৯৪.৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ১০ কিলোমিটার করে তিনটি প্যাকেজে টেন্ডার হয় এ সড়কের কাজ। প্যাকেজ তিনটি মোকামতলা থেকে পুনট, পুনট থেকে মাটির ঘর এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত। পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের কাজ পায় রাজশাহী শহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান র্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স। তারা ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে কাজটি শুরু করেন ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। এ অংশের কাজ শেষ হবে চলতি বছরের জুন মাসে। মোকামতলা থেকে পুনট এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত এ দুই প্যাকেজের কাজ পায় নাভানা কনস্ট্রাকশন। ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে নাভানাও কাজ শুরু করে একই সঙ্গে। তাদেরও কাজ শেষ হবে জুলাই মাসে। কিন্তু শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাগুলো ধীরগতিতে এ সড়কের কাজ করেছেন এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
শুরুতেই ভালো সড়কের দুই পার্শ্বে গর্ত এবং পিচ ঢালাই কার্পেটিং-এর পাথর তুলে ফেলেছে ঠিকাদারের লোকজন। দীর্ঘ ১৪ মাসে ৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আর ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটার সড়কে নতুন করে বালু, খোয়া ও পাথর দিয়েছে। এখনো ১৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়নি।
উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৮ জেলার যানবাহন চলাচল করছে এ সড়ক হয়ে। প্রতিদিন শত-শত মালবাহী ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে অকেজো হয়ে দিনের পর দিন এ সড়কে পড়ে থাকছে। বেহাল অবস্থায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমে আছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীসহ সকল যানবাহনকে। আগামী জুলাই মাসে এ সড়কের কাজ শেষ হওয়াতো দূরের কথা, আরো একবছরে শেষ করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নই এলাকাবাসীর। তাদের দাবি- আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই যেন সড়কের কাজ শেষ হয়। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাভানা কনস্ট্রাকশনের মহাব্যবস্থাপক আকবর আলী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, কার্যাদেশের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিটুমিনের কাজ ছাড়া বাকি সব কাজ শেষ হবে।
পথচারী হামিদুল ইসলাম, ট্রাকচালক জোবায়ের হোসেন ও দূরপাল্লার কোচ চালক সামিম হোসেন জানান, গত দেড়বছর ধরে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে এ সড়কে। পাঁচজন লোকও মারা গেছে। জয়পুরহাট মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৮টি জেলায় যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক হিসাবে ব্যবহূত হয় এ সড়কটি। দূরপাল্লার কোচ, আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ পথে।
র্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্সের পক্ষে সড়কের কাজ দেখ-ভালের দায়িত্বে নিয়োজিত মাজেদুর রহমান বলেন, যে পর্যন্ত কাজ করেছি সে অনুপাতে বিল দাখিল করে আজও টাকা পায়নি। মূলত অর্থ সংকটের কারণেই কাজ বন্ধ আছে। অর্থ পেলেই দ্রুত কাজ চালু করা হবে। সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি প্যাকেজে কাজ পেয়েছে নাভানা কনস্ট্রাকশন। তাদের কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও তাদের কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। মহাসড়কের পিচ-খোয়া তুলে এভাবে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে তার পক্ষ থেকে এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পক্ষ থেকেও একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা এমনটাই নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির সিদ্দিক বলেন, একটি প্যাকেজের কাজ বন্ধ আছে। অন্য দুইটি প্যাকেজের কাজ ধীরগতিতে এগুচ্ছে। অর্থ ছাড় করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।