ফুলবাড়ির বেশিরভাগ কৃষক বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত

সরাসরি ধান ক্রয় অভিযান

ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

সরাসরি কৃষকের ধান ক্রয় অভিযানে ফুলবাড়ির বেশিরভাগ কৃষক তাদের উত্পাদিত ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে লোকসান থেকে ফিরতে পারছেন না কৃষকরা।

উপজেলার চকচকা গ্রামের বোরো চাষি মো. জিল্লুর রহমান, মো. শহিদুল ইসলাম ও গোপালপুর গ্রামের সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। সাড়ে ৬শ থেকে ৭শ টাকায় একজন শ্রমিক নিতে হয়েছে। এদিকে বাজারে নতুন ধানের দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৫শ টাকা মণ দরে বিক্রি হওয়ায় হতাশার মধ্যে পড়েছেন তারা। তবে আশা ছিল সরকারি গুদামে কিছুটা ধান বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখতে পাবেন। কিন্তু লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্ধারণ হওয়ায় তারা সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বরাদ্দ বাড়ানো হলে সুযোগ বঞ্চিত কৃষকরাও ধান বিক্রি করার সুযোগ পেতেন।  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. গোলাম মওলা বলেন, উপজেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৩ টন। ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ওই পরিমাণ ধান ক্রয় করা হবে। কিন্তু যে পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা হবে উপজেলায় তার চেয়ে অনেক অনেকগুণ বেশি কৃষক রয়েছেন। এ কারণে কৃষি বিভাগের কৃষি উপকরণ কার্ডধারী কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে জন প্রতি ৫২০ কেজি করে ধান ক্রয় করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, কৃষি দপ্তর থেকে ২০১৪ সালে ইস্যু কৃষি উপকরণ কার্ডের ভিত্তিতে ৩২ হাজার ৫৫৫ জন কৃষকের নামের তালিকা ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। ওই তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে ৮৩০ জন কৃষকের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ৪৩৩ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু উপজেলায় স্বীকৃত ধান চাষির সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। এখানে এবার প্রায় ৫৯ হাজার টন ধান উত্পাদন হয়েছে। এ কারণে কৃষকদের ধান ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে গত ২১ মে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন ৮৩০ জন কৃষক।