বিজেপি নিজেকে সুবিধাজনক অবস্থানে মনে করছে না আর
অঞ্জন রায় চৌধুরী, নয়াদিল্লি
প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৪, ২৩:২৭
ভারতের চলতি লোকসভা নির্বাচনের আগে অনেক হাকডাক দিয়েই নির্বাচনী মাঠে নেমেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এমনকি দলটির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী এরকম বক্তব্যও দিয়েছিলেন যে, ভারতে এবারই প্রথম যে নির্বাচনের আগে ফলাফল নির্ধারণ হয়ে যায়। কিন্তু সেই ধর্মীয় দলটি এখন মনে করছে, তারা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। দলটির অভ্যন্তরীন জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। আর বিজেপির অসুবিধাজনক অবস্থান তো কংগ্রেসের সুবিধাজনক অবস্থান।
বিজেপি’র নেতৃবৃন্দ আশা করেছিলেন, দিল্লির সরকার গঠনের জন্য ৫৪৩ আসনের মধ্যে ২৭২ টি আসন জয় করতে পারবেন তারা। কিন্তু দলটির সেই আশা আস্তে আস্তে মিইয়ে যাচ্ছে। দলটির অভ্যন্তরীন জরিপে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে দলটির অবস্থান ভাল নয়। উত্তরপ্রদেশ (৮০) এবং বিহারের (৪০) মোট ১২০ আসনের মধ্যে ৭৫টি আসন পাওয়ার আশা ছিল দলটির। কিন্তু জরিপের তথ্য মতে, বেশি হলে ৫০টি আসনে জিততে পারে বিজেপি। আর ২৫টি আসনে হারের কারন বিজেপি’র ভুল প্রার্থী নির্বাচন এবং বিরোধীদের ভাল প্রচারণা। এমনকি বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকেও খুব একটা ভাল করবেনা। কিছুদিন আগেও বিজেপি’র ভাবনায় ছিল, ২২০ থেকে ২৩০টি আসনে জিতে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এখন জয়ের আশা ১৭০ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন। আর যদি এটা হয় তাহলে বিজেপিকে সরকার গঠনে আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস, এআইএডিএমকে, বহুজন সমাজ পার্টি ও বিজু জনতা দলের সমর্থন লাগবে। আর সেক্ষেত্রে মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্কা ভেস্তে যেতে পারে। কারন ছোট্ট এই দলগুলো বিজেপি’র এল কে আদভানি, রাজনাথ সিং, অরুণ জেটলি, সুষম স্বরাজদের মধ্যে কাউকে দাবি করতে পারে।
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ, ওরিসা, তেলেঙ্গানা, সীমান্ধ্র, তামিলনাড়ু এবং কেরালায় ভাল করার আশা করছে না। দলটির আশার সবচেয়ে বড় জলাঞ্জলি হবে পাঞ্জাব প্রদেশে। এখানে তারা ১৩টি আসনে জিততে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের আঞ্চলিক সহযোগী আকালি দল সেখানে জনপ্রিয় নয়। আর কংগ্রেস সেই সুবিধাটা নিচ্ছে। বিজেপি’র সিনিয়র নেতা অরুণ জেটলি অমৃতসরে পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা অমৃন্দার সিংয়ের কাছে হারতে পারেন। বিজেপি’র অধিকাংশ জয় আসবে গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, উত্তরাঞ্চল, গোয়া, হিমাচল, হরিয়ানা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু আসন থেকে। শিব সেনা এবং তেলেগু দেশম পার্টির মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিজেপি’র মিত্রতার সম্পর্ক আছে।
ভারতের ১৬ তম এই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি ১৭০ আসন পায় তাহলে কংগ্রেস ১২০ আসন পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানেই থাকতে পারে। বিজেপির জন্য হার তো কংগ্রেসের জন্য জয়। আর এটা সম্ভব হয়েছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে তার ভূমিকা। বিভিন্ন রাজ্যে এটাই দলের মধ্যে ভাল করার আশা জাগিয়েছে। নির্বাচনের আগে মনে করা হয়েছিল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেতে পারে। তবে কংগ্রেসের আশা ছিল ১৪০টি আসনে জয়। সেখানে যদি দলটি ১২০টি আসন পায় তাহলে ছোট্ট দলগুলো নিয়ে একটি সমঝোতার সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে সমস্যা দেখা দিতে পারে প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে। ২৫ আসনে জয়ের আশায় থাকা মমতা ব্যানার্জি এবং জয়ললিতা সরকারে সর্বোচ্চ এই পদটি দাবি করে বসতে পারেন।