ঢাকা চেম্বারের বৈঠকে বক্তারা
রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে সরকারের সহযোগিতাও প্রয়োজন
প্রকাশ : ১০ মে ২০১৪, ২০:০৭
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান বলেছেন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের জন্য সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার ও দূতাবাসগুলো এগিয়ে আসলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্যকরণ নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি বলেন, রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঐতিহ্যগত পণ্যগুলোর পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্যের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আরো বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ, রপ্তানি বাণিজ্যে সার্ভিস সেক্টরের অন্তর্ভুক্তি করা, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী এবং ডব্লিউটিও-এর মত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নিকট দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার।
গতকাল শনিবার ডিসিসিআই আয়োজিত “রপ্তানি সমৃদ্ধিঃ আমদানীকারক দেশের প্রেক্ষিত” বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডিসিসিআইয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত সাকির কাসিম মাহাদি, শ্রীলংকার হাইকমিশনার ডব্লিউ এ সারাথ কে ওয়ারাগোদা, কোরিয়ান ট্রেড সেন্টারের (কট্রো) সিনিয়র ম্যানেজার ফারুক আহমেদ, ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওসামা তাসীর, সহ-সভাপতি খন্দকার শহীদুল ইসলামসহ পরিচালকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সাকির কাসিম মাহাদি বলেন, বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়নি। বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের জন্য ইরাকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডালারের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যার ৪০ ভাগ ব্যয় করা হবে নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার জন্য। তৈরী পোশাক, সিরামিক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ইরাকে বিনিয়োগ করতে পারেন। তিনি বলেন, ইরাকে প্রচুর বাংলাদেশি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে এবং এ কাজে নিয়োজিত লোকের সংখ্যা আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ডব্লিউ এ সারাথ কে ওয়ারাগোদা বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অথবা সম্ভাবনাময় বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে ২০১২ সালে বাংলাদেশে শ্রীলংকার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ এবং আমদানি বেড়েছে ৯ শতাংশ।
ফারুক আহমেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৫ টি পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। তিনি জানান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে। তিনি বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বাংলাদেশি মিশন সমূহের দক্ষতা ও কার্যক্রম আরো ব্যাপকতর করার আহবান জানান।