১৫ বছর পথে পথে গান শুনিয়ে যাচ্ছেন বাউল আজিজুল
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ মে ২০১৪, ২২:০৫
একটু দূর থেকে ভেসে আসছে, ‘যা দিয়েছো তুমি আমায়......কি দেবো তার প্রতিদান। মন মজালে ওরে বাউলা গান।’ গানের সুরে সুরে শুধু দোতারার তালে মগ্ন শ’খানেক মানুষ। বাউলা গান তাদের ঠিকই মজিয়েছে। যান্ত্রিক জীবনে শত ব্যস্ততার পরেও রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিভিন্ন বাজারে ওই বাউল শিল্পীকে ঘিরে জড়ো হয়েছেন শ’খানেক শ্রোতা। হাত তালিও পাচ্ছেন শিল্পী। সঙ্গে নামমাত্র ক’টা টাকা। এই তার স্বপ্ন। নিজের সর্বস্ব উজাড় করে শ্রোতার মন জয় করে বেঁচে থাকার প্রত্যয়। বাউল এই শিল্পীর নাম আজিজুল ইসলাম। ২৬ বছর বয়সী আজিজুলের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার ঘোড়াবান্ধা গ্রামে।
দুই সন্তানের জনক তিনি। তিন বছরের মেয়ে আর এক বছরের ছোট্ট এক ছেলে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলে বিয়ে করেছেন আপন মামাতো বোনকে। গোদাগাড়ীর প্রেমতলী বাজারে বাবার দেয়া দোতারায় মিষ্টি সুর ভাসিয়ে একের পর এক গান শুনিয়ে মন জয় করছিলেন শ্রোতাদের। সারা শরীর জড়ানো লম্বা দুটি জিঞ্জির। গান শেষে একান্তে আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘গান হচ্ছে মনের খোরাক। আর যে লোক ফুল আর গান পছন্দ করে না, সে মানুষ খুন করতে পারে।’ এই কথার উপলব্ধি থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা। সেটা প্রায় দেড় যুগ আগের কথা। তার বাবা শাহজাহান মিঞাও ছিলেন বাউল শিল্পী। বাবার কাছে তালিম নিয়েই গান গাওয়া। এখন গান তার নেশা। গান তার পেশা। পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে গান শোনান। গান শুনিয়ে আয় করেন ২শ’-৩শ’ টাকা। বাবার কাছে গানের তালিম নিয়ে ১৫ বছর ধরে পথে পথে গান শোনান। করুণা করে কেউ দু’পয়সা দিলে খুশি হয়ে গ্রহণ করেন। এই দিয়েই চলে তার জীবন ও জীবিকা।