দু’দফা দাম কমিয়েও বিক্রি হচ্ছে না কেরুজের চিনি

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি খ্যাত চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চিনিকলের অবিক্রিত পৌনে ১৫ হাজার মেঃ টন চিনির প্রায় অর্ধেকেরই খাদ্যমান হ্রাসের আশংকা দেখা দিয়েছে। দুই দু’বার কেজি প্রতি মোট ১৫ টাকা মূল্য কমিয়েও বিক্রি হচ্ছে না। সংরক্ষণের স্থানাভাবে অবিক্রিত বিপুল পরিমাণ চিনি অযত্নে-অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, ট্রেনিং কমপ্লেক্স, ক্লাবঘর ও ফার্মাসিউটিক্যাল ডেসপাস গুদামে। চিনিকলটির ২০১৩-২০১৪ মৌসুমে উত্পাদন হয়েছে ৭ হাজার ৯৯০ মেঃ টন। তার আগে অবিক্রিত চিনির মজুদ ছিল ৬ হাজার ৯০৫ দশমিক ৯৫ মেঃ টন। কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময় চিনি গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। রাখলে এর গুণগত খাদ্যমান ক্রমশ লোপ পেতে থাকে। চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণে চিনিকলটিতে অর্থ সংকট প্রকট রূপ নিয়েছে। অবসর গ্রহণকারী চিনিকলটির শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্রাচ্যুয়িটি/পেনশনের পাওনা প্রায় ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। অপরদিকে, আখ চাষিদের বিক্রিত আখের মূল্য বাবদ প্রায় ২ কোটি টাকা অপরিশোধিত রয়েছে। এই বিষয়ে কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, আখ চাষিদের আখের মূল্য ও শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা বাবদ মোট বকেয়া প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি টাকা হবে। তিনি বলেন, অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এই বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হবে। চিনিকলের অবিক্রিত চিনি স্থানাভাবে যত্রতত্র ও যেখানে সেখানে ফেলে রাখার সত্যতা স্বীকার করলেও মজুদকৃত চিনির গুণগত খাদ্যমান হ্রাস পাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক ও সুষ্ঠু কোনো জবাব দেননি।