না’গঞ্জে ব্যবসায়ী নিখোঁজ
প্রকাশ : ১০ মে ২০১৪, ২৩:৩১
বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জে শুক্রবার এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল হক মিয়ার কাছে শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলা হয়েছে, না দিলে নারায়ণগঞ্জের মত ঘটনা ঘটানো হবে। গতকাল শনিবার সাভারের আশুলিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে। শুক্রবার আখাউড়ায় হোটেল কক্ষে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। দাগনভুঁইয়ায় অপহরণকারীর কবল থেকে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মহানগরের খানপুর তল্লা বড় মসজিদ এলাকার শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দিনগত রাত ১টায় তার স্ত্রী সুমি ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। নিখোঁজ শহীদুল ইসলাম তল্লা রেললাইন সরদারপাড়া এলাকায় মুরগির ব্যবসা করেন। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই বিল্লাল জিডির বরাত দিয়ে জানান, শহীদুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ।
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি জহুরুল হক শাহজাদা মিয়ার কাছে মোবাইলে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে নারায়ণগঞ্জের মত ঘটনা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে এ হুমকি দেয়া হয়। শাহজাদা মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে দুইটি নম্বর থেকে (০১৯৩৭৪১৬৫৫৪, -০১৭১৬৮০৮৮২০) ফোন দিয়ে তার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, এসময় টাকা না দিলে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার মতো অপহরণ করে হত্যা করা হবে বলে জানায় হুমকিদাতা। শাহজাদা বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে। কোতোয়ালী থানার ওসি সৈয়দ মোহসিনুল হক জিডির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সাভার রিপোর্টার জানান, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া থানার কাইচাবাড়ী এলাকা থেকে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সকালে বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অপহরণকারীরা অপহূত ছাত্রীর বাসার মোবাইলে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহূতার মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার বখাটে যুবক ছোটন ও সুমনসহ কয়েকজন বাসার মোবাইল ফোনে কল করে বলে, ‘তোমার মেয়েকে আমরা তুলে এনেছি। তাকে বাঁচাতে চাইলে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে’ এ ঘটনার পর আমরা স্কুলে খবর নিয়ে মেয়েকে না পেয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করি। কিন্তু পুলিশ আমাদের কথার গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনায়।
আশুলিয়া থানা পুলিশের এসআই এএফএম সায়েদ জানান, এটি অপহরণ নয়। হয়তো মেয়েটি কারো সঙ্গে প্রেম করে পালিয়ে যেতে পারে। আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হোটেল থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১২টায় পৌর শহরের ‘দীপ্তি আবাসিক হোটেল’ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেরপুর জেলার রবিন, রাজীব ও সজীব নামে তিন যুবক দীপ্তি আবাসিক হোটেলে উঠে এবং তিনটি সিঙ্গেল রুম ভাড়া নিয়ে রাত্রিযাপন করে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হোটেলের ম্যানেজারের কাছে চাবি দিয়ে দু’জন হোটেল ত্যাগ করে। কিন্তু একজন হোটেলে থেকে গেলেও রুমে তালা ঝোলানো থাকে। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে রাত ১১টার দিকে হোটেল মালিক ও ম্যানেজার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। রাত ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ারের উপস্থিতিতে পুলিশ তালাবদ্ধ হোটেল রুমে প্রবেশ করে রক্তাক্ত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথা ও নাক থেঁতলানো ছিল। লাশের পাশে একটি হাতুড়ি পাওয়া যায়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল ম্যানেজার মনিরকে আটক করে। মামলা হয়েছে। আখাউড়া থানার এসআই এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আওয়াল জানান, নিহতের নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি। হোটেলের রেজিষ্টারে লেখা অনুযায়ী শেরপুর জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, দাগনভূঞার ইয়ারপুর গ্রামে ১৫টি ককটেল ও ২টি ছোরাসহ জাহাঙ্গীর আলম নামের এক যুবককে অপহরণকারীর কবল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে দাগনভূঞা পৌরসভার গজারিয়া রোডের সাত বাড়ির নুরনবীর ছেলে লাতুর পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দাগনভূঞা থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহরণকারী লাতুকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অলি উল্যার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থেকে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মিদ্ধারহাট এলাকায় তার খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। মোটরসাইকেল বেচাবিক্রিকে কেন্দ্র করে অপহরণকারী লাতু জাহাঙ্গীরকে তার আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটক করে রাখে। পুলিশ তার আস্তানা থেকে ১৫টি ককটেল ও ২টি ছোরাসহ অপহূত জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বাজিতপুরে অপহূত স্কুলছাত্র
চট্টগ্রামে উদ্ধার
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বাজিতপুর আফতাবউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণীর ছাত্র আলফাজউদ্দিন তোহা (১৫) শুক্রবার অপহূত হওয়ার পর গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামে উদ্ধার হয়েছে। তোহার চাচা স্কুলশিক্ষক হান্নান জানান, শুক্রবার বিকালে ভৈরব থেকে বাজিতপুর ফেরার পথে দুর্জয় মোড়ে একটি সাদা রঙ্গের মাইক্রোবাস থেকে এক অপহরণকারী তাকে পানি কিনে এনে দিতে বলে। সে পানি নিয়ে আসতেই তাকে জোর করে ওই মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। গাড়িতে ওরা চারজন ছিল। এ ব্যাপারে তার ভাই ওসমান গণি ভৈরব থানায় গতকাল জিডি করেন। তোহা জানায়, মাইক্রোটি কুমিল্লার কাছাকাছি যাওয়ার পর অপহরণকারীরা মদ পান করে মাতলামি করে এবং তার বাবার মোবাইল নম্বর চায়। সে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওরা তাকে প্রহার করে ও বলে, ৮ লাখ টাকা ৭ দিনের মধ্যে না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। চট্টগ্রামে পৌঁছার পর অপহরণকারীরা গাড়িতে ঝিমানোর সময় সে দৌড়ে আত্মরক্ষা করে। তোহার চাচা আব্দুল হান্নান জানান, তোহা তার বাসায় থেকে লেখাপড়া করে। গত শুক্রবার সে পাঠ্যবই কিনতে ভৈরব গিয়ে অপহূত হয়। আফতাবউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিনা বেগম জানান, তার এক শিক্ষকের ভাইপো অপহূত হয়েছে বলে ওই শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন। অপহূত তোহা তার স্কুলের ছাত্র। চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন জানান, গতকাল শনিবার সকালে কাজীর দেউড়ি এলাকায় পেট্রোল পুলিশ তোহাকে উদ্ধার করে।