জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শাকিব অভিনেত্রী জয়া আহসান
প্রকাশ : ১০ মে ২০১৪, ২৩:৩৫
মহান মুক্তিযুদ্ধের মহত্ অর্জন ও মানুষের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক সাফল্য এবং মানুষের ত্যাগের ইতিহাস আছে। তাই আপনাদের কাছে প্রত্যাশা, সেসব সাফল্য ও ত্যাগের ইতিহাস চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরুন’। গতকাল শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপি।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র শিল্পে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট অভিনেতা খলিল উল্লাহ খানকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেন। এরপর ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের ওপর ২৪টি ক্যাটাগরিতে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৩ জন বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার গ্রহণ করেন যথাক্রমে শাকিব খান ও জয়া আহসান। শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পায় উত্তরের সুর।
মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটায় এমন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের খারাপ দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। তরুণ সমাজকে বিপথে নিয়ে যায়, এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ না করার পরার্মশ দিয়ে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র যেন সমাজ, বিশেষ করে তরুণদের বিপথে নিয়ে না যায় সেদিকে আরো মনোযোগ দিতে হবে’।
প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আধুনিক বিশ্বের মত আমাদের চলচ্চিত্রও যেন শিক্ষাবিস্তার, জাতিগঠন ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে, তেমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী সিনেমা হলের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভালমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি সিনেমা হলগুলোর পরিবেশ উন্নত ও আধুনিক করা প্রয়োজন।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী শাকিব ও জয়া :শ্রেষ্ঠ ছবি উত্তরের সুর
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২ প্রাপ্তরা হলেন : শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র-প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর (চলচ্চিত্র-উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক- হুমায়ূন আহমেদ (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক- ইমন সাহা (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা), প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- শাকিব খান (চলচ্চিত্র-খোদার পরে মা), পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- এটিএম শামসুজ্জামান (চলচ্চিত্র-চোরাবালি), খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-শহীদুজ্জামান সেলিম (চলচ্চিত্র- চোরাবালি), প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- জয়া আহসান (চলচ্চিত্র-চোরাবালি), পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- লুসি তৃপ্তি গোমেজ (চলচ্চিত্র-উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী-মামুন (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার-মেঘলা (চলচ্চিত্র-উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার-শাহনেওয়াজ কাকলী (চলচ্চিত্র-উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ চিত্র নাট্যকার-হুমায়ূন আহমেদ (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা-রেদওয়ান রনি (চলচ্চিত্র-চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ গায়ক- পলাশ (চলচ্চিত্র-খোদার পরে মা, কথা : মা তুমি আমার আগে যেওনা গো মরে.....), শ্রেষ্ঠ গায়িকা-রুনা লায়লা (চলচ্চিত্র-তুমি আসবে বলে, কথা : যখন তাকে দেখেছি.....), শ্রেষ্ঠ গীতিকার-মিল্টন খন্দকার (চলচ্চিত্র-খোদার পরে মা, কথা : মা তুমি আমার আগে যেওনা গো মরে.....), শ্রেষ্ঠ সুরকার-ইমন সাহা (চলচ্চিত্র-পিতা, কথা : আয়নারে ও আমার আঁধার রাতের আয়না.....), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক-মাহফুজুর রহমান খান (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক-রিপন নাথ (চলচ্চিত্র-চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক-ছলিম উল্লাহ ছলি (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক-কলমতর ও উত্তম গুহ (চলচ্চিত্র-রাজা সূর্য খাঁ), শ্রেষ্ঠ মেকাপম্যান- খলিলুর রহমান (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা) এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা-এস এম মাঈনুদ্দিন ফুয়াদ (চলচ্চিত্র-ঘেটুপুত্র কমলা)।