বি শ্ব মা দি ব স

মাতৃত্বকালীন ভাতা ও স্বপ্ন প্যাকেজ

বিশ্বে সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর আমাদের দেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার (এ বছর ১১ মে) বিশ্ব মা দিবস উদ্যাপন করা হয়। দারিদ্র্য দূরীকরণে পিছিয়ে থাকা দেশ হিসেবে আমাদের দেশে মা দিবস পালনের যৌক্তিকতা আছে অনেক। মা দিবসে সভা, সমাবেশ, সেমিনারের মাধ্যমে মায়েদেরকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকে প্রতিবছর। কিন্তু আমরা কখনো ভাবি না আমাদের দেশের দরিদ্র মায়েদের অবস্থানের কথা। আমাদের দেশের দরিদ্র মায়েদের কথা চিন্তা করে ২০০৫ সালে বিশ্ব মা দিবস থেকে বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন অফ দি রুরাল পুয়র-ডর্প এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান দেশে দরিদ্র মাদের জন্য ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ প্রদান কার্যক্রম প্রবর্তন করেন। পাশাপাশি তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতা সরকারিভাবে চালু করার দাবি করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের উদ্যোগটি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে। দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন অধিকার সংরক্ষণে স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ গর্ভকালীন সেবা, প্রসবোত্তর সেবাসহ নিজ ও সন্তানের পুষ্টি খাদ্য খরচ বাবদ মাসে ৩৫০ টাকা করে (একজন মা দুই বছর ভাতার টাকা পাবেন) প্রদান করেন। গ্রামে কিছু কিছু জায়গায় এখনও প্রচলন আছে পেটে সন্তান আসলে মা’কে কম খাওয়াতে হবে। মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার ফলে এই প্রচলনটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা একজন মা খরচ করবেন। এতে পুষ্টিত সুস্থ শিশুর জন্ম হবে। পুষ্টিহীনতার অভাবে শিশু ও মায়ের মৃত্যু হবে না। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে নির্বাচিত মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত ৮৯২ জন মাকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য নিয়ে ডর্প স্বপ্ন প্যাকেজ কার্যক্রমটি উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর ও লক্ষ্মীপুর সদর, নোয়াখালীর চাটখিল, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাইলট আকারে বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে। স্বপ্ন প্যাকেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক প্রজন্ম তথা ২০ বছর মেয়াদে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ রূপে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখায় গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডর্প এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান। তিনি এ জন্য আসছে বাজেটে স্বপ্ন প্যাকেজ বাস্তবায়নে বরাদ্দ দাবি করেন। ........................................