খে লা ধু লা
এগিয়ে যাচ্ছেন উলিয়ানা
প্রকাশ : ১১ মে ২০১৪, ১৯:৪৪
একজন রেফারি কখন খবরের শিরোনাম হন? সাধারণত কোন ভুল সিদ্ধান্তে ম্যাচের ভবিষ্যত্ পাল্টে দিয়ে? অথবা বিতর্কিত কোন সিদ্ধান্তের কারণে? কিন্তু ফার্নান্দা কলম্বো উলিয়ানাকে কিন্তু তেমন কোন কারণে খবরে আসেননি। ভুল কিংবা বিতর্কিত কোন সিদ্ধান্তে ম্যাচের ভবিষ্যত্ বদলে দিয়ে ঝড় তোলেননি সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে। বরং কোপা দো ব্রাজিল টুর্নামেন্টে সাও পাওলো-সিআরবির ম্যাচ পরিচালনা করে হঠাত্ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন এই নারী। উলিয়ানার এই অর্জন আসন্ন বিশ্ব মা দিবসকে কেন্দ্র করে পেয়েছে নতুন মাত্রা। এদিকে আজ অ্যাথলেটিকো মিনেইরো-ক্রুজেইরো ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলিয়ান সিরি এতেও অভিষেক হয়ে যাচ্ছে তার।
দিন কয়েক আগে পর্তুগীজ কোচ হেলেনা কস্তা ফরাসি ক্লাব ক্লেমেন্তের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে অনেকটা চমকেই দেন সবাইকে। যা ছিল ইউরোপের প্রথম সারির একটি লিগের কোন ক্লাবে প্রথম নারী কোচ নিযুক্ত হবার ঘটনা। এবার উলিয়ানার প্রধান রেফারি নিযুক্ত হবার ঘটনা নি:সন্দেহে নারী অগ্রযাত্রায় যুক্ত করলো নতুন মাত্রা। শুধু উলিয়ানা একা নন, ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে পুরুষদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছেন ইতালির এলেনা তাম্বিনিও, যিনি কিনা অবসর সময়ে মডেলিংও করেন! তবে অন্যান্য প্রায় সব ক্ষেত্রের মতোই নারীর শীর্ষে উঠে আসার এই পথটি মসৃণ নয় মোটেই। তবে সেসব বাধা-বিপত্তিকে তুচ্ছ করেই সামনে এগুতে বদ্ধপরিকর উলিয়ানারা।
কিছুদিন আগে ইতালির নিচের বিভাগের একটি ম্যাচে জুভেন্তাস ডি সান্তা ক্যাতারিনার কোচ সেলসো তেইক্সেরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে সহকারি রেফারি মারিয়া আমেরিকানোর উদ্দেশ্যে অশালীন উক্তি করার। তবে কোচের বিরুদ্ধে করা সেই অভিযোগ তুলে নেন মারিয়া নিজেই। সহকারি রেফারি হিসাবে সাইডলাইনে থাকা মারিয়া এদিন ব্যস্ততায় সেলসোর কোন কথাই শুনতে পাননি বলে জানান। যদিও ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে এক বিবৃতিতে মারিয়া জানান তার অভিপ্রায়ের কথাও, ‘শারীরিক সৌন্দর্য আসলে চোখে পড়ার মতো কোন বিষয় হতে পারে না। আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন একজন নারীকেও একজন পুরুষের মতোই কেবল তার কাজ দিয়ে পরিমাপ করা হবে।’
তবে রেফারিংয়ের এই কাজে উলিয়ানা-তাম্বিনিদের পথিকৃত হয়ে আছেন অ্যামি ফিম। দুই সন্তানের জননী অ্যামি গত বছরের নভেম্বরে করবি টাউন-ডোভার অ্যাথলেটিকের মধ্যকার এফএ কাপের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ পরিচালনা করে এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসে। কোন ফুটবল লিগে কোন নারীর ম্যাচ পরিচালনার প্রথম নজির ছিল এটি।
শীঘ্রই হয়তো অ্যামির পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চলেছেন সিয়ান ম্যাসিও। ২০১১ সাল থেকেই সহকারি রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অচিরেই হয়তো তাকে দেখা যাবে প্রধান রেফারির ভূমিকায়।
—ডেইলি মেইল অবলম্বনে