দ্যাখ! দেশমাতা আজ তোর বাবার অভিভাবক হয়েছে
প্রকাশ : ১১ মে ২০১৪, ২০:৩১
গত ১০ মে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’ গ্রহণ করছিলেন সেই সময়ই তার বড় ছেলে আল আমিন তারেক খান তার মোহাম্মদপুরস্থ নিজ অফিসে হার্টঅ্যাটাকে ইন্তেকাল করেন। নিয়তির কি অদ্ভুত খেয়াল! ছেলে আমিন তারেকের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। খলিলের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। ছোট ছেলে বাবু ১৯৯৩ সালে ইন্তেকাল করেছেন। সেই কষ্ট আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এরমধ্যে বড় ছেলেও চলে গেলেন। কষ্টের কথা বলতে গিয়ে খলিল বলেন, ‘মানুষের জীবনে সুখ আর দুঃখ এত কাছাকাছি হতে পারে তা নিজের জীবন দিয়ে আজ উপলব্ধি করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমার চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে আমার আজীবন কষ্ট থেকে যাবে—বড় ছেলের সঙ্গে আমার শেষ দেখাটা হলো না। আমি আসলে ওকেই খবরটি খুব করে বলতে চেয়েছিলাম যে, দ্যাখ দেশমাতা আজ তোর বাবার অভিভাবক হয়েছে। কী জানি হয়তো, আমার পাশের অনেক বড় সহায় আমার ছেলেটিকে খোদা নিয়ে নেবেন বলেই প্রধানমন্ত্রী আমার দায়িত্ব আগেই বুঝে নিলেন। পরম করুণাময়ের কাছে তাই কী বলব! সবই হয়তো তার ইচ্ছে। আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।’
এদিকে খলিলের বড় ছেলের লাশ শনিবার রাতে বারডেম হিমাগারে রাখা হলেও গতকাল বাদ জোহর নামাজে জানাজার পর মোহাম্মদপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, খলিলের বড় ছেলে আল আমিন তারেক খান ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজম্যান্টে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।