সফল খামারী ঈশ্বরদীর ‘গাজর’ জাহিদ
স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ মে ২০১৪, ২১:৪৪
ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী গ্রামের সাত্তার প্রামাণিকের পুত্র সফল কৃষক জাহিদুল ইসলাম (গাজর জাহিদুল) কৃষি কাজ করে তার ভাগ্য ফিরিয়েছেন। মাত্র সাত বিঘা জমিতে চাষাবাদ শুরু করলেও এখন তিনি দু’শত পঞ্চাশ বিঘা জমিতে ভুট্রা, আখ, গাজরসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করছেন, গড়ে তুলেছেন দুগ্ধ খামার। জাহিদ জানান, বাংলাদেশে উত্পাদিত মোট গাজরের ৭৫ ভাগই ঈশ্বরদীতে উত্পন্ন হয়। ঈশ্বরদীতে বিগত কয়েক বছরে অন্য কৃষকের তুলনায় জাহিদু্ল সবচেয়ে বেশি গাজর উত্পাদন করেছেন। ব্যাপকভিত্তিতে গাজর চাষ করার কারণে তার নামের পাশে অলংকার হিসেবে গাজর নামটি সংযুক্ত হয়ে এলাকায় তিনি গাজর জাহিদুল হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছেন।
জাহিদুল আরো জানান, এই মাটিই হচ্ছে আমার প্রাণ। মা এবং মাটির সাথে মিশে আছি সব সময়। পরিশ্রম এবং সততার সাথে কাজ করলে শ্রষ্টা একদিন তার ভাগ্যের পরিবর্তন করবেই। কৃষি কাজে সফলতার জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকে জাহিদুল ভূষিত হয়েছেন। জাহিদুল প্রান্তিক কৃষক থেকে আজ বড় খামারের মালিক হয়েছেন। তার খামারে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। সততা, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম আজ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
জাহিদুলের খামারে রয়েছে, ছোট-বড় মিলিয়ে ২৩০টি গরু। এরমধ্যে একটি ধানের চাতাল ও দু’টি ট্রাকের মালিকও হয়েছেন তিনি। জাহিদুল জানান, রাজধানী ঢাকায় তার গাজরের ব্যাপক চাহিদা।
জাহিদুল বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা কৃষি কাজে এগিয়ে এলে তারা আরও বেশি ভালো করবে। তিনি অভিযোগ করেন, বীজ বিক্রেতারা ইচ্ছে মাফিক কখনো কখনো বীজের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সাত হাজার টাকা কেজির বীজ দশ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। জাহিদুলের স্ত্রী সার্বিকভাবে বন্ধুর মতো সহযোগিতা করায় তিনি এতো সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান। ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা তাকে এবং অন্য কৃষকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান জাহিদুল।