ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে গণভোটে বিদ্রোহীদের বিজয় দাবি
আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
প্রকাশ : ১২ মে ২০১৪, ২০:৫৭
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ডোনেস্কে অনুষ্ঠিত গণভোটে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে বেশিরভাগ ভোট পড়েছে বলে দাবি করছে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। লুহানস্কেও একই ধরনের ফলাফলের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্র এই গণভোটের নিন্দা জানালেও তাত্ক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে রাশিয়ার কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। গণভোটের পর ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
গত রবিবার অনুষ্ঠিত ডোনেস্কের গণভোটে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার কোনো বুথ ছিল না। এমনকি ভোটার নিবন্ধনও করা হয়নি। তবে ১৮ বছরের বেশি যে কেউ ভোট দিতে পেরেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে ইউক্রেনপন্থী দুইজন নিহত হয়েছেন বলে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জানিয়েছে। এছাড়া, মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্কে অনুষ্ঠিত গণভোটেও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে বেশিরভাগ ভোট পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন সরকার এই ভোটকে ‘রাশিয়ার আয়োজিত একটি অপরাধমূলক প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রও এই গণভোটের নিন্দা জানিয়েছে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটনের মুখপাত্র মাজা কোচিজানসিস বলেন, ‘লুহানস্ক ও ডোনেস্কের কিছু অংশে অনুষ্ঠিত এই তথাকথিত গণভোট অবৈধ এবং আমরা এই গণভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেব না। যারা এই গণভোটের আয়োজন করেছে, তাদের কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই।’ এদিকে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও এ বিষয়ে ক্রেমলিনের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগে এ ধরনের একটি গণভোটে রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল ক্রিমিয়ার বেশিরভাগ মানুষ।
গোলযোগপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে এই গণভোটের ফলে ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গণভোটের কারণে দেশটির আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। এছাড়া, ইউক্রেনের বিভক্তির পাশাপাশি ভোটের গ্রহণযোগ্যতা ও ফল নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।