চায়ের চাহিদা বেড়েছে বাড়েনি উত্পাদন
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১২ মে ২০১৪, ২৩:০২
দেশে চায়ের চাহিদা বাড়লেও উত্পাদন বাড়েনি। দেশীয় বাজারে বছরে পাঁচ শতাংশ ভোক্তা বাড়লেও চায়ের উত্পাদন বেড়েছে মাত্র এক শতাংশ। চা শিল্পের নানা সমস্যা ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এই শিল্পে দুর্দিন চলছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের মূল্য বাড়লেও আয় বাড়ছে না এ শিল্প থেকে।
দেশে চা বাগান আছে ১৬০টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চা বাগান সিলেটে, ১৩৮টি। জানা গেছে, ভালো ফলনের জন্য ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে চা-গাছে বৃষ্টির প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চা উত্পাদন ব্যাহত হয়। ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ১২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনাবৃষ্টি চা সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলে। তখন বেশ কিছু বাগানের চা-গাছকে বাঁচাতে কৃত্রিম উপায়ে সেচ দেয় হয়। এবারও সিলেট বিভাগে সেই বৃষ্টির পরশ না পাওয়ায় অধিকাংশ চা-বাগান খরার কবলে পড়ে। সিলেটের বাগানগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। হাতে গোনা কয়েকটি বাগানে কৃত্রিম সেচ দেয়া হয়। তবে পয়লা বৈশাখের পর আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টিতে বাগানগুলোতে সজিবতা ফিরে আসতে শুরু করেছে।
চা উত্পাদন কমে যাওয়ার জন্য আবহাওয়াজনিত কারণ ছাড়াও চা গাছের বয়সও বড় ভূমিকা রাখে বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানালেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া নার্সারিতেই প্রতি বছর ৪০ ভাগ চারা মারা যায়। সূত্র জানায়, দেশে মোট ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চা বাগান রয়েছে। এসব চা-গাছের বয়স ৬০ বছরের বেশি। ফলে গাছগুলো উত্পাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সেই সাথে রয়েছে বাগান অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি চা বাগানের পরিচালক বলেছেন, পর্যাপ্ত পানির অভাব, ছায়া বৃক্ষ নিধন ও রাজনৈতিক কারণসহ নানা কারণেও সার্বিক উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকার এখনই এ ব্যাপারে জোর উদ্যোগী না হলে চায়ের সার্বিক উত্পাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই এ খাতে নজর না দিলে ভবিষ্যতে দেশের চায়ের বাজারের একটি বিরাট অংশ দখল করে নেবে বিদেশি চা। সূত্র জানায়, খুচরা বাজারে চায়ের দাম বাড়লেও দেশের বৃহত্ চা শিল্পে একটি সিন্ডিকেটের কারণে নিলামে চায়ের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে মার খাচ্ছে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।