সম্পূর্ণ বেসরকারি পরিচালনায় যাচ্ছে নিউমুরিং টার্মিনাল!
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ মে ২০১৪, ২৩:০৪
চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি পর্যায়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এটা হলে বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে অপারেশন কাজ পরিচালনা করবে। এর ফলে বন্দরের সহস্রাধিক কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সাম্প্রতিক সভায় এনসিটি পরিচালনার জন্য বন্দর কর্তৃক ইকুইপমেন্ট কেনার পূর্বেকার সিদ্ধান্ত বাতিলের ব্যাপারে আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটি সদস্য ও চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার সংসদ সদস্য এমএ লতিফ ইত্তেফাককে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বন্দর কর্তৃক প্রায় ৬ শ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যেহেতু টার্মিনালের অপারেশন কাজ বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান করবে তাই তারা ইকুইপমেন্টও দেবে। বন্দরের ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করলে তাদের কোন দায়িত্ব থাকবে না। ফলে বহু মূল্যবান ইকুইপমেন্ট অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়েই বন্দরের ১২ শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
জানা গেছে, পূর্বেকার সংসদীয় কমিটি বন্দর কর্তৃক ইকুইপমেন্ট ক্রয় করার সুপারিশ করেছিল। এর প্রেক্ষিতে নৌ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক এনসিটি’র জন্য প্রায় ১২ শত কোটি টাকার ইকুইপমেন্ট কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এ মাসের মধ্যেই এনসিটির জন্য গ্যান্ট্রিক্রেনসহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট কেনার টেন্ডার আহবান করার কথা ছিল। তবে সংসদীয় কমিটির আপত্তির কারণে টেন্ডার আহবানের সম্ভাবনা নেই বলে সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের সামপ্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জামাদি ক্রয় করা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠার প্রেক্ষিতে ১২শ কোটি টাকায় ইকুইপমেন্ট কেনার ব্যাপারে সংসদীয় কমিটি আপত্তি জানায়। সংসদীয় কমিটির প্রথম সভায় বন্দরের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘স্কেভেটর’ কেনার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া ১২শ কোটি টাকা ব্যয়ে ইকুইপমেন্ট ক্রয় কতটুকু যৌক্তিক হবে তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন। আবার ইকুইপমেন্ট কেনার পর বিশাল অংকের টাকায় যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইকুইপমেন্টের জন্য কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়েছে। যার অনেকগুলো গোডাউনে দীর্ঘ দিন ধরে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, এনসিটি প্রকল্পের উদ্বোধনের সময়ই ঘোষণা করা হয়েছিল এটি সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি অপারেটর কর্তৃক পরিচালিত হবে। কিন্তু নানা জটিলতার এক পর্যায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে এনসিটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ইকুইপমেন্ট ক্রয়, লোকবল নিয়োগসহ পরিচালনা ব্যয় পর্যালোচনা করে বন্দর কর্তৃক পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এরপর বন্দর কর্তৃক ইকুইপমেন্ট ক্রয় এবং বেসরকারি অপারেটর কর্তৃক এনসিটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এনসিটি’র নির্মাণ কাজ ২০০৮ সালে শেষ হলেও এখনও সম্পূর্ণরূপে পরিচালনার আওতায় আসেনি। ৫টি বার্থের মধ্যে দু’টি সাইফ পাওয়ার টেক নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। অপর ৩টি বার্থ এক প্রকার অলস পড়ে রয়েছে। মাঝে-মধ্যে ওই ৩টি বার্থেও কিছু জাহাজ ভিড়ে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ জাহাজ ভিড়ানো বাবদ প্রাপ্ত টাকা ভোগ করেন।