এ বছর শিল্প ও সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি কমবে :এডিবি

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমায় চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমবে। পাশাপাশি কমবে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গত এক দশকে প্রতি বছর গড়ে ৬ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রার হিসাবে প্রবৃদ্ধির এ হার তুলনামূলক কম। প্রবৃদ্ধির হার কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়াতে হলে দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ অনেকটাই স্থির। তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ উত্সাহিত হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো না থাকায় ব্যাংকগুলোতে বিপুল টাকা পড়ে আছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি মালিকানার ব্যাংকগুলোতে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছর কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে তা হতে পারে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় কৃষিপণ্য সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় কৃষকরা কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতির শিকার হয়েছে। এডিবি বলছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প ও সেবাখাতে। তাই চলতি অর্থবছরে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ও সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। রাজনৈতিক কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমায় এ খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এডিবি বলছে, কিছু কিছু অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় দারিদ্র্য দূরীকরণের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সবার জন্য শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের জোর দেয়া প্রয়োজন। দারিদ্র্য দূরীকরণে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নারীরা, তাই এ ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক খাত একটি চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রধান উত্স এ খাত। এখানে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। যাদের বেশিরভাগই নারী। কিন্তু ২০১২ ও ২০১৩ সালের দুটি বড় দুর্ঘটনায় (তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধস) এ খাতটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। পোশাক কারখানার মালিক, বিদেশি ক্রেতা ও সরকার মিলে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ করছে। হঠাত্ করে এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য বড় ধরনের অর্থায়ন প্রয়োজন। যা অর্থায়ন করতে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানা সমস্যায় পড়বে। এক্ষেত্রে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে কিংবা বড় কারখানার সঙ্গে যাবে। চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার বেশ ধীর। আর এডিপি বাস্তবায়নে বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর তুলনায় দেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতেই মনোযোগ বেশি। যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।