শেষপর্বের ভোটের দিনেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ পশ্চিমবঙ্গে

শেষ হলো বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের দীর্ঘতম পার্লামেন্ট নির্বাচন পর্ব। গতকাল সোমবার নবম ও শেষ পর্বের ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা। ১৬ মে ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে। গতকালের ভোটপর্বে তিনটি রাজ্যের ৪১টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। বেশিরভাগ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলেও আগের কয়েক পর্বের মতো পশ্চিমবঙ্গে এবারো ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক হাঙ্গামার কথা স্বীকার করেছে। গতকাল ছিল উত্তর প্রদেশের ১৮টি, পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি এবং বিহারের ছয়টি আসনে ভোটগ্রহণ। এবারের লোকসভা নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। গতকালের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হবার পর পুরো নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর আগে ১৯৮৪-৮৫ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ। গতকাল ভোট শেষ হবার পর নির্বাচন কমিশন এই তথ্য প্রকাশ করে। গতকাল উত্তরপ্রদেশের ১৮টি আসনে ৫৫ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গের ১৭ আসনে ৭৯ শতাংশ এবং বিহারের ৬টি আসনে ভোট পড়ে ৪৫ শতাংশ। গতকাল সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। শেষ দিনেও ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উত্সাহ। টলিউডের তারকারাও এদিন নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। অনেক কেন্দ্রে তাদের দেখার জন্য ভীড় জমে যায়। পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা:নির্বাচনের শেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সন্ত্রাস, ভোটদানে বাধা, গুলিবর্ষণ, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সহিংসতার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল মমতা ব্যানার্জি ও তৃনমূল কংগ্রেসকে দায়ী করে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস, বিজেপি এবং সিপিআই (এম)। নির্বাচন কমিশন ১১টি বুথের ভোট বাতিল করে দেয়। এসব বুথে আজ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ করা হবে। গতকাল ভোটের আগে হাওড়ার ব্রাহ্মণচকে সিপিএম সমর্থকদের মারধরের পাশাপাশি তাদের ওপর গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়। মারধরে গুরুতর জখম হয় ২০ জন । ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে ছুরির কোপ মারা হয় কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানকে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই জওয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেক কেন্দ্র থেকেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সিনিয়র সিপিএম নেতা সিতারাম ইয়েচুরি এসব সহিংসতার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ি করে এক বিবৃতি দেন। তিনি অভিযোগ করেন শাসক দলের ‘গুন্ডাদের’ গুন্ডামি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে পুলিশ। অপরদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগে বলা হয়েছে তাদের কর্মীদের উপরও সিপিএম সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। ভারতের এবারে লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত দুই প্রার্থী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী ও আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দু’জনই উত্তর প্রদেশের বেনারস আসনে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছেন। এ ছাড়া আলোচিত প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেসের অজয় রায় ও সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো মুলায়ম সিং যাদব। গতকাল ভোটের পর কেজরিওয়াল বলেন, তিনি মোদীকে পরাজিত করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। অপরদিকে, বেনারসে সবাইকে ভোট দিবে আহ্বান সম্বলিত মোদীর একটি ভিডিওবার্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, যে বেনারসে মোদী নিজে প্রার্থী সেখানে ভোটের দিনে তিনি ভিডিও বার্তা প্রচার করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।