বরিশালে চাল সংগ্রহে ব্যর্থ মিলারদের সাথে চুক্তি নয়

বরিশাল বিভাগে এবার বোরো ধান সংগ্রহ গত বছরের চেয়ে ১০৭ মেট্রিক টন কম। তবে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এই বছর ৩৯১ টন চাল বেশি সংগ্রহ করা হবে। বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য কল মালিকদের সাথে চুক্তির জন্য বিভাগের ৬ জেলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের এ চুক্তির জন্য এ বছর নতুন একটি শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী বিগত বছরে চুক্তির পর ধান ও চাল সরবরাহে ব্যর্থ কল মালিকদের সাথে নতুন করে চুক্তি না করার জন্য বলা হয়েছে। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের মজুদ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান- এ বছর বিভাগের ৬ জেলা থেকে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১২৮ টন। গত বছরে এর পরিমাণ ছিলো ৪ হাজার ২৩৫ টন। চাল সংগ্রহের এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৬৪৩ টন। গত বছর যার পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ২৫২ টন। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। চলতি মে মাসের ২০ তারিখের মধ্যে কল মালিকদের সাথে চুক্তিসম্পন্ন করতে হবে। এ বছর বোরো ধানের মূল্য ২০ টাকা ও চালের মূল্য ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বরিশাল জেলা থেকে ধান ১ হাজার ৭৫৪ ও চাল ৫৮৬ টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের পরিমাণ কমলেও বেড়েছে চাল সংগ্রহের পরিমাণ। গত বছর ধান ছিলো ১ হাজার ৮১৯ টন ও চাল ৫৪৬ টন। ঝালকাঠি জেলায় গত বছরের চেয়ে ধান ও চাল সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে । ঝালকাঠি থেকে এই বছর ধান সংগ্রহের পরিমাণ ২৫৯ টন। গত বছর ছিলো ২৫৩ টন। চাল ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৪২ টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিরোজপুর জেলা থেকে গত বছর ৬১০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার ৬৩০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ জেলা থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়নি। এ বছর ৪৮ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা জেলা থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪২৩ ও চাল ৯৯ টন । গত বছর এ জেলায় সংগ্রহ করা হয়েছিল ধান ১ হাজার ৪৭৩ টন ও চাল ১৫ টন। পটুয়াখালী জেলায় গত বছরে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো যথাক্রমে ৩৬২ ও ৭০ টন। এ বছর নির্ধারিত হয়েছে চাল ৬৬৪ টন ও ধান ৫০ টন। বরগুনা জেলা থেকে গত বছর মাত্র ১০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। এ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ টন। চালের পরিমাণ গত বছর ছিলো ১৪৬ টন। এ বছর ১৫২ টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।