নবম-দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ১৯:৪৭
বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা
আতাউর রহমান সায়েম
শিক্ষক ,বাংলা
সারমর্ম
৯. বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপরে
একটি শিশির বিন্দু।
সারমর্ম: মানুষ বহু অর্থ ও সময় ব্যয় করে দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্যে যায়। কিন্তু ঘরের কাছের অনির্বচনীয় সৌন্দর্যটুকু দেখা হয় না বলে সে দেখা পূর্ণতা পায় না।
১০. বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা-
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখ তাপে ব্যথিত চিত্তে নাই বা দিলে সান্ত্বনা
দুঃখ যেন করিতে পারি জয়।
সহায় মোর না যদি জুটে,
নিজের বল না যেন টুটে।
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা,
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা
তরিতে পারি শক্তি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি নাইবা দিলে সান্ত্বনা
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
সারমর্ম: সুদৃঢ় মনোবল ও আত্মশক্তি বলিষ্ঠ প্রয়োগের মাধ্যমেই জাগতিক প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করে সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব। নিজের ভার অপরের লাঘব করলে নিজের কোনো কৃতিত্ব থাকে না। বিধাতার কাছে তাই আত্মশক্তিই আমাদের প্রার্থনা।
১১. বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি, সে আমার নয়-
অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময়
ঔভিব মুক্তির স্বাদ। এই বসুধার
মৃত্তিকার পাত্রখানি ভরি বারংবার
তোমার অমৃত ঢালি দিবে অবিরত
নানা বর্ণগন্ধময়। প্রদীপের মতো
সমস্ত সংসার মোরে লক্ষ বর্তিকায়
জ্বালায়ে তুলিবে আলো তোমারি শিখায়
তোমারি মন্দির মাঝে।
সারমর্ম: সংসারের বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে আত্মার মুক্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। মানুষকে পবিত্র আনন্দে বেঁধে রাখার জন্যেই বিধাতা এই জগত্ সৃষ্টি করেছেন। এই জগেক ভালোবাসলেই তাঁকে ভালোবাসা হয়; তাতেই মুক্তি।
১২. শৈশবে সুদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পণ্ডশ্রম,
ফল কহে সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে,
কিসে পার হবে তারা না আসিলে ফিরে।
সারমর্ম: জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্যে শৈশব থেকেই সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ের সদ্ব্যবহার অনুশীলন করা উচিত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে পরবর্তী সময়ে সে কাজ করার সুযোগ আর নাও আসতে পারে।
১৩. সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্র যদি পূর্বাচল কোণে
নাই হয় উদয়,
তারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে,
না করিব ভয়।
হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি, বিভীষিকা মূর্তি ধরি যদি
গ্রাসিবারে আসে,
সে মৃত্যু লঙ্ঘিয়া যাব সিন্ধু পারে নবজীবনের
ইবীন আশ্বাসে।
সারমর্ম: জীবনে যদি শত আঘাত, বাধা-বিপত্তি, ভয় এবং দুঃখের অমানিশাও ঘনিয়ে আসে তাতে ভেঙে পড়লে চলবে না। নতুন জীবনের ডাকে সাড়া দিয়ে সে-সব উপেক্ষা করে প্রগতির দিকে ধাবিত হতে হবে।