দ্বাদশ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান

লৌহ যুগ মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সর্বোচ্চ স্তর লুবনা জাহান প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ, ঢাকা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ আমরা সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তরঃ ১। লৌহ যুগের সময়কাল সম্পর্কে ধারণা দাও। উত্তর ঃ লৌহ যুগ মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সর্বোচ্চ স্তর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে লৌহের ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেমন খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লৌহের ব্যবহার শুরু হয়। ব্রিটেনে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে প্রথমে লৌহের ব্যবহার শুরু হয়। ভারতবর্ষে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দে বা তার পূর্বে লৌহের ব্যবহার শুরু হয়। এশিয়া মাইনরে হিটাটিটরা (Hittites) প্রথম লৌহ শিল্পের ব্যবহার শুরু করে। মার্টিন হুইলের মতে, ভারতে লোহার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে। ইউরোপের দানিয়ুব, ক্রিট দ্বীপ ও গ্রিসে খ্রিষ্টপূর্ব এগারো শতকে লৌহের যুগের সূচনা ঘটে। ২। উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর। উত্তর ঃ উচ্চ প্রাচীন প্রস্তর যুগ শুরু হয় ৩০,০০০ বছর পূর্বে এবং খ্রিষ্টপূর্ব ১০,০০০ বছরকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময়ের বাসিন্দারা হচ্ছে ক্রোম্যাগনন মানব। গুহাবাসী এই ক্রোম্যাগননের গুহার দেয়ালে ছবি আঁঁকত। এদের মধ্যে বয়স ও লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রমবিভাগ দেখা দেয় বলে জানা যায়। এ সময়কার প্রস্তর অস্ত্রগুলোকে ফ্রান্সের তিনটি জায়গার নাম অনুসারে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এ সময় মানুষ খুব চিকন লম্বা ফলার মতো অস্ত্র বানিয়েছে। সাধারণভাবে বলা যায় যে, প্রাচীন প্রস্তর যুগের বাসিন্দারা খাদ্য সংগ্রহ অর্থনীতি নির্ভর ছিল। এ যুগের মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গেছে দক্ষিণ ফ্রান্সের দবদইন এর ক্রোমানীয়া গিরিগুহায়। ৩। শালবন বিহার কি কারণে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্যাখ্যা করো। উত্তরঃ শালবন বিহারটি আবিষ্কৃত হয়েছে কুমিল্লা শহর থেকে পশ্চিমে পাহাড়ের পূর্ব সীমা ঘেঁষে শালবনপুর গ্রামের নিকটে। শালবনপুর গ্রামের পাশে অবস্থিত বলে এর নাম শালবন বিহার। এটি মূলত বৌদ্ধ বিহার যার আয়তন ৫৫০´ x ৫৫০´। একটি কেন্দ্রিয় মন্দিরকে ঘিওে এ বিহারটি তৈরি করা হয়েছে। বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ১২´ x ১২´ আয়তনের ১১৫ টি কক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলোর দেওয়াল ৫ ফুট চওড়া এবং কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া বারান্দা রয়েছে। শালবন বিহারের চারপাশ ১৬.৫ ফুট চওড়া এবং উত্তরদিকে একটি মাত্র প্রবেশপথ। বিহারের মধ্যস্থলে কারুকার্য খচিত ইটের তৈরি ক্রুশাকার প্রধান মন্দিরটি অবস্থিত। এর পরিকল্পনা ও স্থাপত্য শিল্প অবলোকনে অনেকেই মুগ্ধ হয়েছে। বস্তুত শালবন বিহারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে- ক) এটা একটা বিরাট আয়তনের বৌদ্ধ বিহার খ) বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য পরিকল্পিত আবাসিক ব্যবস্থা গ) কারুকার্য খচিত ইট এবং মজবুত টেকসই গড়ন ঘ) পূজা-অর্চনার সুব্যবস্থা ও ধর্মসভা আয়োজনের জন্য হল-ঘর ৪। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের নাম লিখ। উত্তরঃ বাঙালির গৌরবময় বৈশিষ্ট্যের মূলে রয়েছে বাঙালির জাতিগত নৃতাত্ত্বিক স্বাতন্ত্র্য ও বাংলার বহিঃপ্রকৃতির সবুজ প্রাণের অফুরন্ত সমারোহ। বাংলাদেশের রয়েছে এক সমৃদ্ধ অতীত। জাতি হিসেবে বাঙালিরা দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন থেকে প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ অতীতের বিভিন্ন নির্দশন আবিস্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন সমূহের মধ্যে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর, ওয়ারী বটেশ্বর, আহসান মঞ্জিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।