হাসিবদের হেলিক্যাম

ইডিয়টস সিনেমার সেই দৃশ্যটার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। যেখানে আমির খান তার দুই সহপাঠী শার্মান জোশি ও আর মাধবনকে নিয়ে তাদের তৈরি হেলিক্যামটি উড়িয়ে চলছেন। হেলিক্যামটি উড়ে বেড়াচ্ছে তাদের পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। এবার শুধু রুপালী পর্দায় নয় বাস্তবেই উড়লো হেলিক্যাম। তবে আমির খানের হাতে নয়, হেলিক্যাম ওড়াল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুই ছাত্র হাসিব মাহমুদ ও নাহিদ ফেরদৌস। গত ৩০ এপ্রিল ধানমন্ডির কলাবাগান মাঠে ওড়ানো হয় এই হেলিক্যাম। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফজলুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের প্রধান ড. মোঃ ফখরে হোসেন, তড়িত্ প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ ফয়েজুর রহমান এবং মিডিয়া ল্যাব প্রশিক্ষক মোঃ এস এম আব্দুর রাজ্জাক। বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তৈরি এই হেলিক্যামটি তৈরি করে তড়িত্ প্রকৌশল বিভাগের দুই ছাত্র হাসিব মাহমুদ ও নাহিদ ফেরদৌস। এছাড়াও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হান উল ইসলাম। প্রায় ৩ কেজি ওজনের এই হেলিক্যামটি একটানা প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী উড়তে পারে। গতি ঘন্টায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিঃ মিঃ। হেলিক্যামটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ তলা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। হেলিক্যামটি দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে খুব সহজেই চালনা করা যায়। শুধু দিনে নয় রাতেরবেলাতেও এটি খুব সাবলীলভাবে উড়তে পারে বলে জানান নির্মাতাদের একজন নাহিদ ফেরদৌস। অপর নির্মাতা হাসিব মাহমুদ জানান, যেকোন দুর্ঘটনা বা আগুন লাগা উঁচু ভবনে যেখানে শারীরিকভাবে মানুষের পক্ষে পৌঁছান কঠিন বা অসম্ভব সেখানে সহজেই পৌঁছে যেতে পারে হেলিক্যাম। এছাড়াও বন্যা দুর্গত অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে, গোয়েন্দা নজরদারী করতে, আলোকচিত্র তুলতে এমনকি চলচ্চিত্র নির্মাণেও ব্যবহার করা যাবে এই হেলিক্যাম। প্রকল্পের সমন্বয়কারী সৈয়দ রায়হান উল ইসলাম জানান, আপাতত হেলিক্যামটি শুধুমাত্র ভিডিও রেকর্ড করে ফিরে আসতে পারে। ইচ্ছা রয়েছে যেকোন স্থান থেকেই যাতে এটি তাত্ক্ষণিকভাবে সরাসরি ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারে সেই মানে উন্নীত করার। হেলিক্যামটির প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফজলুল হক জানান, ড্যাফোডিল সবসময়ই শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন জিনিসের আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের জন্য উত্সাহিত করে। এজন্য শুধু এর পেছনে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও দিয়ে থাকে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদেরকে নিত্য নতুন উদ্ভাবনে উত্সাহিত করতে নানান প্রনোদনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। একুশ শতকে যেখানে পুরো বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তি ও কারিগরি দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ববাসীকে নতুন কিছু উপহার দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।