ছাত্ররা রাজনীতি করতো দলীয় লেজুড়বৃত্তি করতো না
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ১৯:৫৯
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। শিক্ষকতার সাথে যুক্ত রয়েছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর হিসেবে। শিক্ষকতার পাশাপাশি সুনাম কুড়িয়েছেন লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা কাজের কৃতিত্বস্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদকসহ বহু পুরস্কার। সমপ্রতি ভূষিত হয়েছেন ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসরকারি উপাধি ‘পদ্মভূষণে’। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বহুমুখী প্রতিভাধর এই মানুষটির ছাত্রজীবন ও ছাত্রভাবনা নিয়ে লিখেছেন—
সাইদুর রহমান খান এবং জোবায়ের মুস্তাফিজ
স্কুল জীবনের স্মৃতি
একটি স্মৃতিই বিশেষভাবে মনে পড়ে, তখন পড়তাম কলকাতার পার্ক সার্কাস হাইস্কুলে। গ্রীষ্মের ছুটির আগে যার যার শ্রেণীকক্ষ সুন্দর করে সাজিয়ে অনুষ্ঠান করে বিদায় নেবার পালা হতো। ওইরকমভাবে ঘর সাজাতে গিয়ে আমার বন্ধু হাসান শফি তিনতলা থেকে পড়ে গিয়ে মারা যায়। পরে আমরা দুই বন্ধু মিলে তার স্মরণে একটি গ্রন্থাগারের পত্তন করেছিলাম। দেশ-বিভাগ হয়ে যাওয়ায় সে গ্রন্থাগারের বিলুপ্তি ঘটে।
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক
আমাদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা ছিল অল্প, শিক্ষকও ছিলেন অল্প তবে প্রত্যেক শিক্ষকই তার সব ছাত্রকে চিনতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর শৃঙ্খলা ছিল। কখনো কখনো তা পীড়নমূলক মনে হতো। ছাত্ররা রাজনীতি করতো কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তি করতো না, মতভেদ থাকলেও সংঘাত ছিল না। কিন্তু এখন অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক ছাত্র এখন এমন সব বিষয়ে পড়তে বাধ্য হয় যে বিষয়ে তার পড়ার আগ্রহই নেই। সুতরাং তারা পড়াশোনার দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে উত্সাহী হয় না। শৃঙ্খলায় বিপর্যস্ততার কারণে সংঘর্ষ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলের লেজুড়ে পরিণত। শিক্ষক সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষকেরা সব ছাত্রকে মনে রাখতে পারে কী না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাই তাদের মধ্যে সম্পর্কটাও সাধারণত ফিকে।
শিক্ষার্থীরা পড়তে চায় না
আমার মনে হয় যে সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পুরোনোদের তৈরি করা নোট এবং ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে। কোন বিষয়ের গভীরে যাওয়ার চেষ্টাটাই তাদের মধ্যে কম। তবে অনেকে আছে যারা যথেষ্ট পড়াশোনা করে এবং জ্ঞানের সন্ধান করে বেড়ায়।
আমার প্রত্যাশা
আমি আশা করবো যে, শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কিংবা অন্তত এর একটিতে নিজের মনোভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করতে শিখবে। আমি আশা করবো যে বিষয়ে তারা পড়ছে সে বিষয়ে তারা ন্যূনতম দক্ষতাটুকু তারা অর্জন করবে এবং এ দুটি লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার মতো কঠোর পরিশ্রম তারা করবে।