ওরা জানিয়েছে স্বপ্নের কথা

খুব ছোটবেলার কথা। তখন থেকেই অপরাধীদের একটি নামের তালিকা আমার খাতার এক কোণায় লেখা থাকত। স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে পুলিশ হয়ে আগে ওদের বিচার করব। তখনি স্বপ্নের ক্যানভাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)’র আলপনা আঁকতে শুরু করি। সফলতার পেছনে ফেলে আসা স্বপ্নের কথাগুলো এভাবেই জানালেন, ৩৩ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ৫৯তম মেধা স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৪তম ব্যাচের ছাত্র এনায়েত করিম রাসেল। শুধু রাসেল নয়। তার সাথে ৩৩তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও সাফল্যর আর ক্যাডার হওয়ার গল্প অনুপ্রেরনা জোগাবে পরবর্তী শিক্ষার্থীদের। প্রশাসন ক্যাডার এ উত্তীর্ণ হওয়া হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি জানান, প্রথমে চিন্তা ছিল কর্পোরেট জগতে কাজ করব। কিন্তু নিজ দেশের জন্যও তো কিছু করা দরকার। এ তাগিদ থেকেই বিসিএস পরীক্ষা অংশ নেই। আবার বিসিএস-এর সবচেয়ে এলিট ক্যাডার বলে পরিচিত পররাষ্ট্র ৩য় স্থান অধিকার করেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান। এছাড়া পুলিশ-এ অষ্টম স্থান অধিকারী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল করিম। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে দেখা গেল ৩৩তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণদের এক আড্ডা। সবাই জমায়েত হয়েছেন প্রাণের ক্যাম্পাসে। আবারও ফিরে গেছেন সেই ক্যাম্পাসের স্বর্ণালী দিনগুলোতে। আড্ডাবাজির তালে তালে চলছে চায়ের কাপে ঝড়। তাদের সাথে আলাপকালে বেরিয়ে আসে জীবনের সাফল্যের কথা। স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাফল্যের দেখা মিলেছে তাদের। কেউ বলেছেন অধ্যবসায়ের কথা। আবার কেউ বলেছেন ধৈর্যের কথা। তবে সবার কথার সারমর্ম ছিলো একটাই তা হলো পড়াশোনা ব্যতীত কিছুই হবে না। পূর্ণ প্রস্তুতিই পারে এমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে। পাশাপাশি জীবনের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে।