ক্লাসের ফাঁকে একদিন
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২০:০০
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বললে যেন একটু ভুলই বলা হবে। এর নাম হওয়া উচিত ছিল বাংলাদেশ কৃষি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল। সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ত্বত্তীয় ক্লাস, ১.৩০ থেকে ৪.৩০ পর্যন্ত ব্যবহারিক ক্লাস। আবার অ্যাসা্্্ইনমেন্ট, ব্যবহারিক খাতা, ক্লাস পরীক্ষা তো আছেই। এই নিয়ম মাফিক রুটিন একটানা আর কত ভাল লাগে? তাই একটু সুযোগ খুঁজি বিনোদনের আশায়।
দিনটা ছিল বৃহস্পতিবার। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমরা ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পাড়ে হাজির হই সকাল ১০ টায়। সবাই এসে উপস্থিত হলে আমরা একটি নৌকা ভাড়া নেই এবং রওনা দেই নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশ্যে। নৌকায় উঠেই আগে সবার পরিচয় আর তার সাথে রূপক নামতো আছেই। সুমন-মটর লুলা, ইয়ামিন-মিচকা শয়তান, তরিকুল-হিরো, শাপলা-হিরোইন, দিশা-মটু, লিমি-নেত্রী, পলি-মরিচ, রাসেল-মোরগ, আব্দুল ওয়াহাব-বাউ, মোমিন-মামা, মুন-ল্যাটকা; এছাড়াও রয়েছে- তৃষা, নোমান, পাপড়ি, সুমি, নওরিন, মুন, ইসরাত, বন্যা ও তুলেশ। এভাবেই অনেক হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়ে শেষ হল পরিচয় পর্ব। আরও দুজনের কথা বলাই হলনা, লাভগুরু জাহিদ আর ভন্ড প্রেমিক নীরব, যারা আগে থেকেই নিঝুম দ্বীপে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। যাহোক নদীর বুক চিরে নৌকা চলেছে সামনের দিকে, ইসরাতের মুখের সুমিষ্ট গান আর নদীর দুই ধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে রাস্তা প্রায় শেষ হয়ে এলো। আমরা দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছালাম সেই অরণ্যে ঘেরা নিঝুম দ্বীপে। এদিকে আমাদের দেরি হওয়াতে জাহিদ আর নীরব তো রেগে আগুন। সেখানে পৌঁছে সবাই একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর শুরু হল মেয়েদের মেকাপ আর ফটোসুট। এই দেখে ছেলেরাও আর বাদ রইলনা, তারাও সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল নিজেদের ক্যামেরায় বন্দিকরা নিয়ে। তারপর দুপুর ১.৩০; এখনও খাবার আসেনি, সবার পেট ক্ষুধায় চো-চো করছে। কিছু করার নেই, শুরু হল গান-গান খেলা।