ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিতর্কে চার ছক্কার লড়াই
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২০:০০
কবি জসীমউদদীন হল মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ। ভেতরে যাদের ঠাঁই মেলেনি তারা বাইরে থেকে উঁকি দিচ্ছে। সবার ভেতরে টানটান উত্তেজনা, উত্কণ্ঠা; ক্রিকেট বলে কথা! প্রশ্ন-তীর ক্রমশ বিদ্ধ করছে তাদের মনকে। বিপিএল কি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ঋদ্ধ করছে না কি ধ্বংস ? আজই হবে এর হেস্ত-নেস্ত। সরকারি দল বিপিএল-এর ওপর যারপরনাই বিরক্ত। ক্রিকেটের মান রক্ষার স্বার্থে বন্ধ করতে হবে এটি। অন্যদিকে বিরোধী দল বিপিএল-এর প্রতি অতিমাত্রায় অনুরক্ত। তাদের দাবি, বিপিএল তো থাকবেই সাথে সাথে ঘরোয়া লীগও চালাতে হবে সময় ও বাজেটের সমন্বয় সাধন করে। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালির সাথে ছিল সরকারি ও বিরোধী দলের চার ছক্কার লড়াই। কিন্তু সবার মনে একটাই ভাবনা- ক্রিকেটকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়। অধিবেশন শেষ। পিনপতন নীরবতা। একটু আগে যারা ছিল করতালির প্রতিযোগিতায় মত্ত, তারাই এখন নীরব, শান্ত। কি হবে ফলাফল ? প্রস্তাব গৃহীত হবে কি হবে না। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৭-৩ ব্যালটের ব্যবধানে বিরোধী দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল ডিবেটিং ক্লাবের বিতার্কিকদের জয় হয়। জয় হলো বিপিএলেরও। জয় হলো ক্রিকেট বোদ্ধাদের। সেইসাথে বিতর্ক যোদ্ধাদের।
প্রথম অংশটুকু পড়ে যারা নড়েচড়ে বসেছেন, তাদের বলছি, মুহূর্তটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘৬ষ্ঠ পল্লীকবি আন্তঃক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতা’র ফাইনাল পর্বের। দেশের ৬৫টি বিতর্ক দল থেকে ৩৮ টিকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় প্রতিযোগিতার জন্য। ৫টি রাউন্ড পেরিয়ে ‘সাঁঝের মায়া কাটিয়ে রাখালী হবার সময় এসেছে আজ’- বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে অবতীর্ণ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল ডিবেটিং ক্লাব এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম ডিবেটিং ক্লাব। ২৫-২৭ এপ্রিল, তিনদিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে আয়োজক বিতর্ক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদদীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আরাফাত আল হোসাইনী বলেন, ‘৬ষ্ঠ বারের মত পল্লীকবি আন্তঃক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন করার মাধ্যমে কবি জসীমউদদীন হল ডিবেটিং ক্লাব প্রমাণ করেছে, বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক, প্রগতিশীল এবং অসামপ্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে সংগঠনটি নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখে’।